বগুড়ার শেরপুরে এতিমখানার আসবাবপত্র লুটের চেষ্টা
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : শেরপুরে একটি এতিমখানার আসবাবপত্র খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী বাধা দিলে তাদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জুলফিকার আলী জুয়েল, রুবেল ও সোহেল নামের তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার বিকেলে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের খুরতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের খুরতা গ্রামে অবস্থিত নিবন্ধনকৃত ‘মানব উন্নয়ন কেন্দ্র এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং’ দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক না থাকায় ভবনটি অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকলেও গত দুই অর্থবছরে ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা সরকারি অনুদান উত্তোলন করা হয়।
রোববার বিকেলে জুয়েল ও তার দুই ভাই এতিমখানা থেকে ফ্রিজ, ফ্যান, আলমারিসহ সব আসবাবপত্র খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে উত্তেজনা দেখা দিলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসবাবপত্রগুলো এলাকার একজন গণ্যমান্য ব্যক্তির জিম্মায় রেখে আসে।
এর আগে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে গত ২৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মমিন। গত ১৩ জুলাই এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছেও অনুরূপ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এতিমখানাটির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী ও সহ-সভাপতি আবু রায়হান তেঁতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তারা সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অচল প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ উত্তোলন করে আসছেন। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ মোট ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা অনুদান তুলেছে।
বর্তমান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম ইসলাম জানান, তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে এতিমখানাটি তালাবদ্ধ পান এবং কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ মেলেনি। অভিযোগ অস্বীকার করে সভাপতি মো. জুলফিকার আলী জুয়েল বলেন, শিক্ষকরা অন্য মাদ্রাসায় চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরাও চলে গেছে। অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করা হয়নি।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, টাকা আত্মসাৎ প্রমাণ হওয়ায় সেই টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188721