আন্দোলনের পর সার্বিয়ার নির্বাচনেও শিক্ষার্থীদের জয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সার্বিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল স্টুডেন্টস লিস্ট। এরমধ্য দিয়ে ডানপন্থি প্রগ্রেসিভ পার্টির নেতা আলেকসান্দার ভুচিচের ১৪ বছরের শাসনের অবসান হলো। পরাজয়ের জন্য ভুচিচ ‘ডিপ স্টেট’কে দায়ী করেছেন।
রোববার দেশটিতে আগাম নির্বাচন হয়। স্টুডেন্টস লিস্ট প্রায় দুই বছর ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলন করে আসছিল। ২০২৪ সালে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহতের পর দুর্নীতির প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। নিজেদের নির্বাচনী কার্যালয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে ‘স্টুডেন্টস লিস্ট’-এর প্রার্থী রাদোমির সাইচিচ বলেন, প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রায় সব ভোটকেন্দ্রেই শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে। শিক্ষার্থীরা জয়ী হয়েছে। এটি ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার আকাঙক্ষারও বিজয়।
গত তিন দশকের বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে এবার সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ৬৪ লাখ ভোটারের প্রায় ৬৫ শতাংশ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট দেন। এটি ১৯৯৩ সালের সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিকে ছাড়িয়ে গেছে। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে পরাজয় মেনে নেন ভুচিচ। এরপর রাজধানীতে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
স্টুডেন্টস লিস্টের নির্বাচনী কার্যালয়ে মিলা মারতিচ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনুভূতি অসাধারণ। মনে হচ্ছে, অবশেষে আমি একটি স্বাধীন দেশে বাস করছি।’ জয় উদযাপন করতে রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসে হাজারো মানুষ। এ সময় চলন্ত গাড়িগুলো হর্ন বাজায়, জনতা স্লোগান দেয় এবং আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে ওঠে আকাশ।
এদিকে পরাজয় মেনে নেওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ভুচিচ বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দল ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসনে জয় পেতে পারে। এতে ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। ৫৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিক তার পুরো শাসনামলে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। নির্বাচনের ফলাফলের জন্য তিনি বিদেশি শক্তিগুলোকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই মানুষ জানুক, বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেটের সরাসরি সমর্থনে পরিচালিত একটি বিপ্লবের স্বীকৃতি এই ফলাফল। এই ডিপ স্টেট আবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরও বিরোধী।’
২০২৪ সালে বিক্ষোভ শুরুর পর শিক্ষার্থীরা বলকান অঞ্চলের দেশটির বিভিন্ন শহরে পদযাত্রা করেন। এর মাধ্যমে তারা সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পান। এসব পদযাত্রা ও বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188668