বগুড়ার মিন্টুকে কুষ্টিয়ায় হত্যার অভিযোগ সাড়ে ৭ বছর পর মামলা, তদন্তের নির্দেশ পিবিআইকে

বগুড়ার মিন্টুকে কুষ্টিয়ায় হত্যার অভিযোগ সাড়ে ৭ বছর পর মামলা, তদন্তের নির্দেশ পিবিআইকে

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকার ফারুক আনোয়ার মিন্টুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর পর আদালতে মামলা করেছেন নিহতের ভাই সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম। ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মিন্টুকে মারধর ও জোরপূর্বক বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসায়িক লেনদেন, কোটি টাকার বিনিয়োগ ও মিন্টুর স্ত্রীর পরকীয়া এ ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাদি।

মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলো মোনতাকিমুল করিম (হিটলার), গুলশান আরা,  নাজিফা আরা করিম, ওয়াফা করিম, আনজির আরা নুর (কবিতা), আব্দুল মতিন খান (সবুজ), হুমায়ন পাটোয়ারী। পরে আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় এ মামলা করা হয়। মামলার আবেদনে বাদি সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম তার ভাইয়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, নিহতের সঙ্গে কয়েকজনের ব্যবসায়িক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ ছিল। এ ছাড়া পারিবারিক বিরোধ এবং নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে এক অভিযুক্তের পরকীয়ার বিষয়টিও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ঘটনার আগে তার ভাইকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার দিন তাকে মারধর ও জোরপূর্বক বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়। মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব ও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকির কারণে ঘটনার পরপরই থানায় মামলা করতে পারেননি বাদি। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করার পর তিনি আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাওয়ার উদ্যোগ নেন।

মামলার বাদি সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম বলেন, তার ভাই কানাডা প্রবাসী সেই সুবাদে কানাডা এবং দেশে থাকতো এবং তার টাকায় ব্যবসা করতো মোনতাকিমুল করিম(হিটলার)। পরে অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে এই পরিকল্পনা করে এবং মোবাইল ফোনে তাকে কুষ্টিয়ায় ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

আমরা ওই সময় নানাভাবে চেষ্টা করেও মামলা এবং ময়না তদন্ত করতে ব্যর্থ হই। এখন দেশে বিএনপি সরকারের আইনের শাসন চলছে তাই উপযুক্ত বিচার পেতেই এই অভিযোগ দায়ের করেছি। আদালতের আদেশের অনুলিপিতে দেখা যায়, ১৯ অক্টোবরের কার্যক্রমে বাদির জবানবন্দি গ্রহণের কথা উল্লেখ রয়েছে। জবানবন্দি পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই, কুষ্টিয়াকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188482