স্পেনের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়লেন মেসি

স্পেনের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়লেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক : প্রথম ফুটবলার হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস জিতলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। মাঠের অসামান্য সাফল্যের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেওয়া হয়েছে স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্পেনের ওভিয়েদো শহরের তিয়াত্রো কাম্পোয়ামার থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেসির হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির রাজপরিবারের সদস্যরা।

গত ৩ জুন মেসিকে ২০২৬ সালের ক্রীড়া বিভাগের বিজয়ী ঘোষণা করেছিল প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় এই সম্মাননা। পুরস্কারটির মাধ্যমে মেসির দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

স্পেনের অন্যতম সম্মানজনক এই পুরস্কার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। এর ক্রীড়া বিভাগে মেসির আগে ফুটবলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দল পুরস্কার পেলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো ফুটবলার এই সম্মাননা পাননি। ২০১০ সালে বিশ্বকাপজয়ী স্পেন জাতীয় ফুটবল দল এবং ২০১২ সালে সাবেক স্প্যানিশ তারকা ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ যৌথভাবে পুরস্কারটি পেয়েছিলেন।

মেসির পুরস্কার জয়ের পেছনে রয়েছে তার অসাধারণ ফুটবল ক্যারিয়ার। বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। ক্লাবটির জার্সিতে জিতেছেন চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ১০টি লা লিগা শিরোপা। ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছাড়ার পর প্যারিস সাঁ-জার্মেইয়ে দুই মৌসুম কাটিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়েও মেসির অর্জনের ঝুলি সমৃদ্ধ। ২০২২ সালে কাতারে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছেন তিনি। ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় রয়েছে রেকর্ড আটটি ব্যালন ডি’অর ও ছয়টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু।

আর্জেন্টিনার তারকা হলেও স্পেনের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দিতে দেশটিতে পাড়ি জমান তিনি। বার্সেলোনায় কাটানো সময়েই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

মাঠের বাইরেও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মেসি। ২০১০ সাল থেকে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের লিও মেসি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। তার এই দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক কর্মকাণ্ডও পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার অন্যতম কারণ।

সব মিলিয়ে, প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড জয় মেসির ক্যারিয়ারে যুক্ত করল নতুন এক স্বীকৃতি। ফুটবল মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এই সম্মাননার মাধ্যমে স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটির ইতিহাসেও স্থায়ী জায়গা করে নিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188406