রিয়াদে হুতির হামলায় নিহত বগুড়া শাজাহানপুরের শাহেদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

রিয়াদে হুতির হামলায় নিহত বগুড়া শাজাহানপুরের শাহেদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন

শাজানপুর (বগুড়) প্রতিনিধি : সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বগুড়ার শাজাহানপুরের শাহেদ আহম্মেদ ওরফে আশিক (৩৬)’র জানাজা ও দাফন আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাদ আসর সরকারি চাঁচাইতারা-মাদলা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্পন্ন হয়েছে। নিহত হওয়ার ১৪ দিনের মাথায় নিজবাড়ির উঠানের পাশে দাদা মরহুম হাছেন আলী মন্ডলের কবরের পাশেই সমাহিত করা হলো শাহেদ আহম্মেদকে।

এর আগে আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি ফ্রিজিং গাড়িতে করে শাহেদের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মাদলা গ্রামের পৌঁছিলে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশিদের মাঝে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

শাহেদের জানাজা নামাজে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম.আর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাইফুর রহমান, বগুড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হাকিম মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক হারেজ উদ্দিন, মাদল ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, ২১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রুহুল কুদ্দুস ডিলু, মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন মন্ডল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর ইসলাম বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান শামীম জায়দার, বিএনপি নেতা মোজাফ্ফর রহমান, শফিকুল ইসলাম, মোশারফ হাসান, ছাত্রদল নেতা শারিক আহম্মেদ সহ দুই সহস্রাধিক মুসল্লিবৃন্দ।  জানাজা নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শাহেদের অবুঝ দুই শিশুপুত্রের লেখা পড়ার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন নিবে বলে পুন:র্ব্যক্ত করেছেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম.আর ইসলাম স্বাধীন।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয় বগুড়ার শাজাহানপুরের শাহেদ আহম্মেদ ওরফে আশিক (৩৬)। নিহত শাহেদ আহম্মেদ শাজাহানপুর উপজেলাধীন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের মাদলা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

শাহেদ আহম্মেদের বাবা রফিকুল ইসলামও প্রায় ৩০ বছর যাবত সৌদি প্রবাসি। একপর্যায়ে রুটি রুজির তাগিদে ছেলে শাহেদ আহম্মেদও সৌদিতে পাড়ি জমান।  সেখানে ‘সাদ আল ঈসা’ নামের একটি কণ্ট্রাক্টিং কোম্পানীতে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন শাহেদ। সম্প্রতি তিনি দুই মাসের ছুটিতে দেশে আসেন। কিন্তু ছুটি শেষ না হতেই এক মাস আগেই কোম্পানী তাকে কাজে যোগদানের জন্য তাগিদ দেয়।

ফলে গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। পরদিন শনিবার বিকেলে রিয়াদ বিমান বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। শাহেদ নিহত হওয়ায় দুই দুই শিশু পুত্র আবদুল্লাহ (৬) ও কাওসার (১১) কে নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন তার বিধবা স্ত্রী কোহিনূর আখতার কাকলী (২৬)।

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাইফুর রহমান ১০ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে মাদলা গ্রামে শাহেদের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন এবং মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ দাতা প্রতিষ্ঠান ‘সাদ আল ঈসা’ শাহেদের বকেয়া বেতন, ভাতা ও চাকুরি সংক্রান্ত পাওনা বাবদ ২৭ হাজার ৩শ’ ৯৫ রিয়েল বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যাংকে জমা দিয়েছে। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৯ লাখ টাকা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188380