অসুস্থ ব্যক্তির পাশে বসে যে দোয়া পড়তে হয়
কেউ অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া, তার সেবা-শুশ্রূষা করা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া করা নবীজির (সা.) সুন্নত, সওয়াবের কাজ। কোনো সাহাবি অসুস্থ হলে নবীজি (সা.) তাকে দেখতে যেতেন এবং তার পাশে বসে এ দোয়াটি পড়তেন:
أَذْهِبِ الْبَأسَ رَبَّ النَّاسِ، اشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
বাংলা উচ্চারণ:
আযহিবিল বা’সা রব্বান নাস, ইশফি ওয়া আনতাশ শাফি, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।
অনুবাদ:
হে মানুষের প্রতিপালক! আপনি এই কষ্ট ও রোগ দূর করে দিন। আরোগ্য দান করুন, কারণ আপনিই তো আরোগ্যকারী। আপনার আরোগ্য দান ছাড়া কোনো আরোগ্য নেই; এমন আরোগ্য দান করুন, যা কোনো রোগ বা ব্যাধি অবশিষ্ট রাখে না।
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
দোয়াটির ব্যাখ্যা ও শিক্ষা
রাসুলুল্লাহর (সা.) এই সংক্ষিপ্ত দোয়াটির প্রতিটি বাক্যে গভীর ইমানি অনুভূতির শিক্ষা লুকিয়ে রয়েছে:
- ‘আযহিবিল বা’সা রব্বান নাস’ (কষ্ট দূরকারী মানুষের রব): এখানে আল্লাহ তাআলাকে ‘মানুষের রব’ বলে ডেকে তাঁর কাছে রোগ মুক্তির আকুতি জানানো হয়েছে। কারণ যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং লালন-পালন করছেন, তিনিই একমাত্র পারেন শরীরের সকল রোগ-ব্যাধি ও কষ্ট দূর করে দিতে।
- ‘ইশফি ওয়া আনতাশ শাফি’ (আপনিই একমাত্র শিফাদানকারী): চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং সঠিক ওষুধ সেবন করা শরিয়তের বিধান, তবে প্রকৃত রোগ মুক্তি আসে কেবল আল্লাহর হুকুমেই। আল্লাহ তাআলা যদি সুস্থতা কবুল না করেন, তবে পৃথিবীর কোনো ওষুধ বা চিকিৎসা মানুষকে আরোগ্য দিতে পারে না।
- ‘শিফা-আল লা ইউগাদিরু সাকামা’ (রোগের কোনো অংশ অবশিষ্টাংশ না রাখা): এখানে এমন পূর্ণাঙ্গ আরোগ্যের জন্য দোয়া করা হয়েছে, যেন শরীরে ব্যাধির কোনো প্রভাব, কষ্ট কিংবা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অবশিষ্ট না থাকে এবং নতুন করে অন্য কোনো অসুস্থতা তৈরি না হয়।
অসস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার ফজিলত
মুসলিম ভাইয়ের ওপর মুসলিম ভাইয়ের একটি হক বা অধিকার হলো অসুস্থতার সময় তাকে দেখতে যাওয়া, তার খোঁজ খবর নেওয়া ও তার সুস্থতার জন্য দোয়া করা। রাসুল (সা.) বলেছেন, এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের হক পাঁচটি: সালামের জবাব দেওয়া, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া, তার জানাযার সঙ্গে যাওয়া, দাওয়াত কবুল করা এবং তার হাঁচির জবাব দেওয়া। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। আলী (রা.) বলেন, কেউ বিকেলে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার সাথে রওয়ানা হয়, তারা তার জন্য ভোর হওয়া পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে থাকে এবং তার জন্য জান্নাতে একটি বাগান তৈরী করা হয়। কেউ সকালে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে তার সাথেও সত্তর হাজার ফেরেশতা রওয়ানা হয়, তারা সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে এবং তাকেও জান্নাতে একটি বাগান দেওয়া হয়। (সুনানে আবু দাউদ)
আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় বা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার কোন দ্বীনি ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করে, তাকে একজন ফেরেশতা ডেকে বলতে থাকেন, মঙ্গলময় তোমার জীবন, মঙ্গলময় তোমার এই পথ চলা। তুমি তো জান্নাতে তোমার আবাস নির্ধারণ করে নিলে! (সুনানে তিরিমিজি)
তাই আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব অসুস্থ হলে তাদের খোঁজখবর নিন, তাদের দেখতে যান এবং তাদের জন্য দোয়া করুন। আল্লাহ তাআলা অসুস্থতা দূর করে দেবেন এবং অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার অপরিসীম সওয়াব আপনাকেও দান করবেন ইনশাআল্লাহ।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188354