কুতুবদিয়ায় আগুনে পুড়ল ৩৬ বসতঘর, ক্ষতি ৭০ লাখ টাকা
গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের ভয়াবহ ছোবলে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় একের পর এক বসতঘর।
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের জেলেপাড়ায় আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে ঘটে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, রান্নাঘরের চুলা থেকে অসাবধানতাবশত আগুনের সূত্রপাত। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বসতঘরে। আগুনের তীব্রতায় একের পর এক ঘর পুড়ে গেলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে পুড়ে যায় ৩৬টি পরিবারের বসতঘর ও ঘরের বিভিন্ন মালামাল।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে, এ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। তবে সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেন দিদার জলদাশ, চন্দ্রসেন, ইমালুন্দ, সিংহ জলদাশ, পেমদাশ, বিকল জলদাশ, মধুরানী, সোহান, সকাল দাশ, মুরালি দাশ, মুরপি, জিসাস, শরিফ, রনি, ধলু, সিদাম, রুবেল, মেঘ দাশ, দিপারানী, রুপাল, সবুজ, পবিরন, বুশ্যা, অজিত, সুনু, কালা গুচু, বাবুল, মুন্না বরন, টুটটুন, উওরা সেন, রুবান দাশ, সুদান সু ও ভাবতির পরিবারসহ ৩৬টি পরিবার।
এক রাতের আগুনে ঘরহারা পরিবারগুলোর সামনে এখন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অনেকেই পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। ঘর নির্মাণ, পোশাক, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুতুবদিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সোহেল আহাম্মেদের নেতৃত্বে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
৩৬টি পরিবারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—পোড়া ভিটায় আবারও ঘর তোলা, নতুন করে সংসার গড়া। আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর ছাইয়ের নিচে পড়ে আছে তাদের বহুদিনের সঞ্চয় আর স্বপ্ন। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188331