বগুড়ায় ভেস্তে যাচ্ছে নদী খনন প্রকল্পের সুফল : করতোয়া রেল ব্রিজের কাছে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা

বগুড়ায় ভেস্তে যাচ্ছে নদী খনন প্রকল্পের সুফল : করতোয়া রেল ব্রিজের কাছে ফেলা হচ্ছে আবর্জনা

স্টাফ রিপোর্টার: প্রায় ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত করতোয়া নদী খনন প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বগুড়াবাসী। নদীটির পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং এর হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনতে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে খনন কাজ চালানো হলেও তা কার্যত কোনো উপকারে আসছে না। অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা এবং প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে খননকৃত এই নদী আবারও ভাগাড় ও ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে।

নদী রক্ষা ও এর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার সরকারি সমস্ত প্রচেষ্টা এক শ্রেণির অসাধু মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের কারণে ব্যর্থ হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় পলিথিন, প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট এবং পচা ময়লা-আবর্জনার এক বিশাল স্তূপ জমে আছে, যা সরাসরি নদীর পানিতে মিশে পানি দূষণ ঘটাচ্ছে। নদী সংলগ্ন এলাকার কিছু লোক ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেনের কাদা নদীতে ফেলছেন।

বারবার সতর্ক করার পরও নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, মহানগরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রাজা বাজার, ফতেহ আলী বাজারসহ নদী সংলগ্ন বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনার পাহাড়সম বর্জ্য নিয়মিত ফেলা হচ্ছে করতোয়া নদীতে। এমনকি রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়া ড্রেন পরিষ্কার করে সেই ময়লা-মাটিও সরাসরি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ার পাশাপাশি পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই মেগা প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন নীরব দর্শক। জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের উদাসীনতা এবং তদারকির অভাবের কারণে নদী দূষণ রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বগুড়ার সচেতন নাগরিক সমাজের দাবি, কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে অবিলম্বে করতোয়া নদীতে সব ধরনের বর্জ্য ফেলা কঠোরহস্তে দমন করতে হবে। একই সাথে রাজা বাজার, ফতেহ আলী বাজারসহ নদী তীরবর্তী যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নিয়মিত নদীতে ময়লা ফেলছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। অন্যথায় এই খনন প্রকল্পের পুরো অর্থই পানিতে যাবে এবং পরিবেশ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে না।

রাজাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হান্নান জানান, রেল লাইনের পাশের ড্রেন পরিস্কার করে তার মাটি করতোয়া নদীতে ফেলার সময় তিনি বিষয়টি অবগত করতে পানি উন্নয়ন কতৃপক্ষ, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন কর্তা ব্যক্তির কাছে ফোন দিলেও কোন প্রতিকার পাননি। নদীতে বাজারের বর্জ্য ফেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের নিষেধ করা হলেও রাতের আঁধারে তারা ফেলছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188236