বাড়তি উৎপাদন খরচের উদ্বেগ নিয়েই বগুড়ায় আগাম আলু চাষাবাদ

বাড়তি উৎপাদন খরচের উদ্বেগ নিয়েই বগুড়ায় আগাম আলু চাষাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার : পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি শীতের আগমনী বার্তা। তবে বগুড়ার মাঠে শুরু হয়েছে আগাম আলু চাষের প্রস্তুতি। কোথাও জমি তৈরি, কোথাও বীজআলু রোপণ, আবার কোথাও চলছে সেচ ও পরিচর্যার কাজ। আগাম আলু বাজারে তুলে বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আলুচাষি।

তাদের আশা, অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের প্রকোপ কম থাকলে এবার ভালো ফলন মিলবে। তবে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তাও রয়েছে তাদের মধ্যে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বগুড়ায় ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হেক্টর প্রতি সাড়ে ১৭ মেট্রিকটন উৎপাদন ধরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজর ১২৫ মেট্রিকটন, যা গত বছর ছিল সাড়ে ৪০ হাজার মেট্রিকটন। মৌসুমের শুরুতেই নতুন আলুর দাম সাধারণত প্রতিকেজি ২০০ টাকার ওপর থাকে। তাই বেশি লাভের আশায় কৃষকরা আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বগুড়ার সদর, শিবগঞ্জ, গাবতলী, শাজাহানপুর, নন্দীগ্রামসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আলু চাষের প্রস্তুতি ও আবাদ মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কৃষকেরা জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন। আগাম আলু চাষে সময়ের গুরুত্ব বেশি। নির্দিষ্ট সময়ে বীজ রোপণ, জমিতে প্রয়োজনীয় রস বজায় রাখা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তুলনামূলক আগে ফসল বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হয়।

আর বাজারে সরবরাহ কম থাকার সময় আলু বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। আগাম আলু চাষে কৃষকের প্রধান লক্ষ্য থাকে মৌসুমের শুরুতে নতুন আলু বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া। কিন্তু এবারও লাভের হিসাব পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। বীজআলু, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পেলে লোকসানের ঝুঁকি থাকে।

গত মৌসুমে আলু বিক্রি করে লোকসানে পড়া অনেক কৃষক নতুন মৌসুমে আবারও আগাম আলু চাষে বিনিয়োগ করছেন।

বগুড়ায় বিভিন্ন গ্রেডের বীজআলু প্রতি কেজি ২৮ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও গত বছরের তুলনায় বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। 
বগুড়া সদরের বিভিন্ন আলু চাষির সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় সার কীটনাশকসহ শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে।

তাই উৎপাদন খরচও বেশি। তবে ভালো ফলনের আশায় আলুর ক্ষেত পরিচর্যা শুরু করেছেন। রোপণের ৬০ দিনের মধ্যে আলু পাওয়া যায়। বিঘায় ৫০ থেকে ৬০ মণ আলুর ফলন পাওয়া যায়। তবে গাছ বেশি দিন থাকলে ফলন বাড়ে।

যেহেতু আগাম জাতের তাই দ্রুত আলু উত্তোলন করে বাজারে নিলে ভালো দাম পাওয়া যায়। আলুচাষিদের মতে আগাম নতুন আলু প্রথম দিকে প্রায় ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। দাম বেশি হওয়ায় এই আলু তুলতে পারলে অনেক লাভ হয়। এই এলাকার চাষিরা প্রতিবছর আগাম আলু চাষ করে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন।

আলু চাষিরা বলছেন, গত বছর বগুড়াসহ দেশজুড়ে ব্যাপক উৎপাদন হওয়ায় এখন পর্যন্ত বাজারে আলুর দাম সব সবজির তুলনায় কম। প্রান্তিক বেশিরভাগ চাষিই গত মৌসুমে আলু চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, দাবি তাদের। তাই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আগাম আলু চাষ করে বেশি লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা। বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান বলেন, প্রতিবছর এ জেলায় ব্যাপক পরিমাণ আগাম আলু চাষ হয়।

আগাম জাতের আলু চাষে বেশ লাভবান হন চাষিরা। বর্তমানে অনুকূল আবহাওয়ায় সময় নষ্ট না করে জমিতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তিনি আরও বলেন, আলুর রোগবালাই দমনসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার জন্য আলুচাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188230