ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি অত্যন্ত কঠিন : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি অত্যন্ত কঠিন : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে এ অচলাবস্থার মধ্যে বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। বুধবার প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১.৩৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০.৩০ ডলার। গতকাল মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১১ ডলারে পৌঁছে যায়। পরে তেলের দাম ১০৬ ডলারে নেমে গিয়েছিল। এরপর থেকে আবার ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে। ব্যারেলপ্রতি ১.৩৩ শতাংশ দাম বেড়ে ডাব্লিউটিআইয়ের দাম পৌঁছেছে ৯৯.১৪ ডলারে।

এদিকে হরমুজে অব্যাহত হামলার মধ্যেও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল রপ্তানি বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি ইরানের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগের অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ অক্টোবরের আগের সাতদিন হরমুজ ও বিকল্প পথে তেল রপ্তানির গড় পরিমাণ ছিল দৈনিক ২৪ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি। যুদ্ধ শুরু আগে এ সংখ্যা ছিল ২৩.৩ মিলিয়ন ব্যারেল।

অন্যদিকে দ্রুত ইরান যুদ্ধ শেষ হবে বলে আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নর্থ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে এক জনসভায় প্রেসিডেন্ট বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াটাই ইরানের ‘স্বপ্ন’। তার ভাষ্য, ‘এটা (যুদ্ধ) খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। যুদ্ধটা শেষ হওয়া মাত্রই তেলের দাম হু হু করে পড়ে যাবে। আর এটি খুব দ্রুতই কোনো না কোনোভাবে শেষ হবে।’ তবে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের ওপর হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

এদিকে অনড় অবস্থানে রয়েছে ইরানও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। পরমাণু ইস্যুতেও অনড় তেহরান। তাদের সমৃদ্ধ ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রাশিয়ার হেফাজতে হস্তান্তরের প্রস্তাব এসেছিল, সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে মার্কিন হামলার কথা উল্লেখ করে দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, ওয়াশিংটনকে তার হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। সূত্র : আল জাজিরা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188179