দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও আর্জেন্টাইনের গোলে জিতলো লিভারপুল

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও আর্জেন্টাইনের গোলে জিতলো লিভারপুল

স্পোর্টস ডেস্ক : দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে ইংলিশ ক্লাবটি। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। আলো ছড়িয়েছেন ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার রিও এনগুমোহাও। ফ্লোরিয়ান ভিৎজও করেছেন গোল, যা গত এপ্রিলের পর তার প্রথম।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য লিভারপুলের জন্য ছিল হতাশার। ভিরগিল ফন ডাইকের ভুলে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর প্রথম আধা ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভিয়ারিয়াল। তবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। ইউরোপীয় ফুটবলে বিনোদনদায়ী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে আন্দোনি ইরাওলার দল। গত সপ্তাহে এলএএসকে লিঞ্জের বিপক্ষে ছয় গোল করার পর এবারও চার গোল করেছে তারা। গোলসংখ্যায় প্রতিযোগিতায় পিএসজির পরেই রয়েছে দলটি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের মৌসুমে এখনও পর্যন্ত ১২ গোল করেছে তারা।

শনিবার ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের চিত্র বদলে দিয়েছিলেন এনগুমোহা। এবার ছয়টি পরিবর্তন নিয়ে সাজানো লিভারপুলের একাদশে জায়গা পান এই তরুণ উইঙ্গার। ভিক্টর মুনোজের চোটের কারণে তাকে ছাড়াই মাঠে নামে দলটি। প্রথমার্ধের প্রথম ৩০ মিনিটে অবশ্য দলের অন্যদের মতো এনগুমোহাও ছন্দ খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েন। ৪র্থ মিনিটে ফন ডাইক হেড করে বল জর্জেস মিকাউতাদজের সামনে পাঠিয়ে দিলে গোল করতে ভুল করেন ভিয়ারিয়ালের এই ফুটবলার। এরপর ২৯তম মিনিটে নিজের দৌড়ের গতিপথে থাকা খেলোয়াড়কে অনুসরণ করতে ব্যর্থ হন এনগুমোহা। সেই সুযোগে ব্যবধান ২-০ করেন সের্গি কারদোনা।

তবে এরপরই ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিতে শুরু করেন ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। দুর্দান্ত গতি ও ড্রিবলিংয়ে ভিয়ারিয়ালের বাঁ-প্রান্তের ডিফেন্ডার কারদোনাকে বারবার বিপাকে ফেলেন তিনি। ৩৬তম মিনিটে প্রথমে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডে ব্যবধান কমায় লিভারপুল। এরপর বিরতির ঠিক আগে এনগুমোহার ক্রস থেকে গোল করে সমতা ফেরান রোনাল্ড আরাউহো। গোলের পর বার্সেলোনা থেকে ধারে খেলতে আসা এই ডিফেন্ডার অ্যানফিল্ড রোড স্ট্যান্ডের সামনের সারিতে চলে যান। সেখানে সমর্থকেরা তাকে ঘিরে ধরেন।

বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন এনগুমোহা। তার একের পর এক আক্রমণে ভিয়ারিয়ালের রক্ষণভাগ চাপে পড়ে। এমনই এক আক্রমণের পর কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। তরুণ উইঙ্গারের প্রতিভায় মুগ্ধ অ্যানফিল্ডের দর্শকেরা। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার সময় দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান সমর্থকেরা। ম্যাচ শেষে বাজানো হয় ডুরান ডুরানের ‘রিও’ গান।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও লিভারপুলের ঘুরে দাঁড়ানো এবং এনগুমোহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখে। ম্যাক অ্যালিস্টারের জোড়া গোল, ভির্টজের গোল এবং নগুমোহার সৃজনশীল আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় লিভারপুল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারাও অক্ষুণ্ন রাখে তারা।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188165