ফোডেনের হ্যাটট্রিক ম্যানসিটির গোল উৎসব
স্পোর্টস ডেস্ক : ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ফিল ফোডেন। তার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্রিক ক্লাব এইকে এথেন্সকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। মঙ্গলবার ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একটি করে গোল করেছেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও রায়ান শেরকিও।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগের ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর এই জয়ে আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে ছিল ইংলিশ জায়ান্টরা। অন্যদিকে, চোটের শঙ্কা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিশ্রামে থাকা আর্লিং হালান্ডকে পুরো ম্যাচেই বেঞ্চে রাখেন কোচ এনজো মারেসকা। দলের নিয়মিত গোলমেশিনকে ছাড়াই পাঁচ গোলের বড় জয় তুলে নিলো সিটিজেনরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রেখে একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করে স্বাগতিকরা। সিটির আক্রমণভাগে এদিন সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ফিল ফোডেন। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ পরিচালনা, সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় পুরো ম্যাচে নিজের ছাপ রাখেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। তার হ্যাটট্রিকই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ফোডেনের গোলগুলো সিটির আক্রমণাত্মক শক্তির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের সেরা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়েছে।
গত দুই মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি ফোডেন। চলতি মৌসুমের শুরুতেও কিছুটা ছন্দহীন ছিলেন তিনি। গত মাসে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনাও তার জন্য হতাশার ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এইকে এথেন্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক সেই প্রত্যাবর্তনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। নিজেদের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে ম্যানচেস্টার সিটি। একের পর এক আক্রমণে গ্রিক ক্লাবটির রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন সিটির খেলোয়াড়রা।
দলের আক্রমণভাগে ফোডেনের পাশাপাশি অন্য খেলোয়াড়েরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রথমার্ধেই ব্যবধান গড়ে তোলার মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। ১২তম মিনিটেই ম্যানসিটিকে প্রথম এগিয়ে দেন এলিয়ট এন্ডারসন। ক্লাবের জার্সিতে এটিই ছিল তার প্রথম গোল। এরপর ৩৪ তম মিনিটে নিজের প্রথম গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে এইকে এথেন্স। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৫২তম মিনিটে) স্টাভরোস পিলিওসের গোলে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে গ্রিক চ্যাম্পিয়নরা।
গোলটি সফরকারীদের জন্য ম্যাচে ফিরে আসার আশার সঞ্চার করলেও সেই গতি বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি তারা। সিটির খেলোয়াড়রা দ্রুত নিজেদের সংগঠিত করে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেন। বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ তৈরিতে আবারও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে স্বাগতিকরা। ৫৭তম মিনিটে রায়ান শেরকিও গোল করে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। ৬৫ ও ৭৬তম মিনিটে আরও দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ফোডেন। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি।
ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণভাগের প্রধান ভরসা আর্লিং হালান্ড। কিন্তু চোটের শঙ্কা থাকায় এই ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কোচ এনজো মারেসকা। দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে সতীর্থদের পারফরম্যান্স দেখেছেন। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের দায়িত্ব সামলানোর সুযোগ পান তরুণ ফুটবলার ফ্লয়েড সাম্বা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188162