রোনালদোর লোক দেখানো শাস্তিকে বড় করে দেখছে এফপিএফ

রোনালদোর লোক দেখানো শাস্তিকে বড় করে দেখছে এফপিএফ

স্পোর্টস ডেস্ক : পর্তুগালের ফুটবলের প্রতীক হয়ে ওঠা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে। ১৮ বছর পর প্রথমবার পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল তাকে নরওয়ের বিপক্ষে।

তার আগে ওয়েলসের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়া হয় রোনালদোকে। নরওয়ে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে আধঘণ্টা খেলার প্রতিশ্রুতি পেয়ে গা গরমও করতে থাকেন। কিন্তু কোচ তার কথা রাখেননি। পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়েছিল। ডেনমার্ক ম্যাচেও যখন শুরুর একাদশে থাকার ব্যাপারে কোচের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পাননি, তখন জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়েন। তার এই আচরণকে কেউ কেউ দাম্ভিকতা হিসেবে দেখলেও তাকে যারা চেনেন-জানেন, স্বাভাবিক হিসেবেই নিয়েছেন। অনেকেই ওখানেই রোনালদোর শেষ দেখে ফেলেছিলেন। কিন্তু পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন তার মূল্য বুঝেই তার সঙ্গে বিবাদ মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেয়। সিআরসেভেন পরে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের কৃতকর্মের জন্য সতীর্থ ও ভক্তদের কাছে ক্ষমা চান এবং আবারও পর্তুগালের জার্সি পরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ফেডারেশনের কাছে নিজের শাস্তিও দাবি করেন।

এর কিছুদিন পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) তাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে। তখন থেকে শোনা যাচ্ছিল, সর্বনিম্ন এক থেকে সর্বোচ্চ ছয় মাস নিষেধাজ্ঞা আসতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছিল, দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি না হলেও তিন মাস নিষিদ্ধ হতে পারেন ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। সোমবার এলো আনুষ্ঠানিক রায়। এফপিএফ রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যা ৩০ সেপ্টেম্বর ডেনমার্ক ম্যাচের দিন থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তাতে করে নিষেধাজ্ঞার ১৯ দিন ইতোমধ্যেই কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি। আগামী ১৪ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের পরের ম্যাচের দুই সপ্তাহ আগেই শেষ হবে শাস্তির মেয়াদ।

আর জরিমানা করা হয়েছে মাত্র ২৫৫ ইউরো বা ৩৫ হাজার টাকা, যা দিয়ে পর্তুর্গালের পরবর্তী ম্যাচের দুটি টিকিট কেনাও যাবে না। আর আল নাসরে দৈনিক ৮ কোটি টাকা পাওয়া এই ফরোয়ার্ডের জন্য জরিমানার খরচ তুলতে লাগবে মাত্র ৩৮ সেকেন্ড। অনেকেই এমন নামমাত্র জরিমানা নিয়ে পর্তুগাল ফেডারেশনকে উপহাস করেছেন। কেউ কেউ এই শাস্তিকে ‘লোক দেখানো’ ও ‘নামমাত্র’ মনে করছে। 

তবে ফেডারেশন এই শাস্তিকে ‘যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত’ বলে অভিহিত করেছে। রোনালদোর শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কী বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে সেটাও তারা বিবৃতিতে জানিয়েছে। এফপিএফ-এর শৃঙ্খলা কমিটি বলেছে যে, তারা রোনালদোর বিবৃতিতে প্রকাশিত ‘অনুশোচনা’ এবং ‘ফুটবলে তার অবদান ও ক্রীড়ানৈপুণ্যের স্বীকৃতি’ বিবেচনায় নিয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে, রোনালদো আত্মপক্ষ সমর্থনে তার পুরস্কার ও অর্জনসহ একটি জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছিলেন। তিনি কমিটিকে তার আগের বিবৃতির কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি নিজের কৃতকর্মের দায় স্বীকার করেছেন এবং সতীর্থ ও ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের শাস্তিও দাবি করেছেন। এসব কারণেই রোনালদো বড় ধরনের শাস্তি থেকে রেহাই পেয়েছেন বলে আভাস দিয়েছে এফপিএফ।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/188054