বগুড়ার গাবতলীর দুর্গাহাটা কলেজে কমিটি ও অধ্যক্ষ নিয়ে বিরোধ, ব্যহত হচ্ছে পাঠদান

বগুড়ার গাবতলীর দুর্গাহাটা কলেজে কমিটি ও অধ্যক্ষ নিয়ে বিরোধ, ব্যহত হচ্ছে পাঠদান

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। এ থেকে উত্তোরণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে ২৪ এর জুলাইয়ের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে অধ্যক্ষ মোজাফ্ফর হোসেন পদত্যাগ করায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পান সিনিয়র শিক্ষকের মধ্যে মইনুল আহসান। বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টনের ডিও লেটারে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি করা হয় এলাকার শিক্ষানুরাগী শাহজালাল মানিককে।

এমপি’র ডিও লেটার অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ৩০ আগস্ট এক চিঠিতে কলেজটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনকে পরিবর্তন করে শাহজালালকে সভাপতি এবং আগামী বছরের ৮ মার্চ পর্যন্ত নতুন সভাপতি কার্যকর থাকবে বলেও চিঠিতে বলা হয়।

নতুন কমিটির সভাপতি দায়িত্ব নিয়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় তিনি সুষ্ঠুভাবে কলেজ পরিচালনা করতে থাকেন এবং ৬টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দিতে ৯ অক্টোবর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেন। অভিযোগ রয়েছে, এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই বাদপড়া সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন নাকি পদত্যাগ করা অধ্যক্ষ মোজাফ্ফর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রুপিং এবং শিক্ষার্থীদের কলেজে আসতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

এমনকি মইনুল আহসানের অনুসারী শিক্ষকদের বহিরাগতদের দিয়ে ভয়ভীতি দেখান। কমিটি নিয়ে বিরোধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জমিদাতা ও স্থানীয় বাসিন্দারাও। জমিদাতা আশরাফ আলী বলেন, কমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চাই, কলেজটি ভালোভাবে চলুক, উন্নত হোক এবং সব দিক থেকে শান্তি ফিরে আসুক।

সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিলে আমি উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেই। উচ্চ আদালত আমার সভাপতির পদ বহাল রেখেছে। তিনি আরও বলেন, আমাকে কলেজে যেতেই দেয় না আমি কলেজে গিয়ে হাঙ্গামা করবো কেমনে। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে কলেজে প্রবেশের ক্ষেত্রে যে মামলা করেছে তা মিথ্যা অভিযোগের মামলা।

সাবেক অধ্যক্ষ মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আমি পদত্যাগ করিনি, আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। নতুন কমিটির সভাপতি শাহজালাল মানিক বলেন, আমাকে এমপি মহোদয়ের সর্বশেষ ডিও লেটারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেড় বছরের জন্য সভাপতি করেছে। আমি কলেজে গিয়ে শিক্ষক ও এলাকাবাসীকে নিয়ে কলেজ পরিচালনা করতে গেলে কিছু ব্যক্তি অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে অন্যদিকে আমার ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।

কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মইনুল আহসান বলেন, আমাকে শিক্ষকরা, এলাকাবাসী এবং ম্যানেজিং কমিটি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু সাবেক সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষর দলাদলির কারণে এবং বহিরাগতদের দিয়ে হুমকি-ধমকিতে শিক্ষার্থীরা কলেজে আসতে পারছে না। এতে করে নিয়মিত ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, আমি ওই কলেজের বিষয়ে কিছুটা শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187915