ডব্লিউএইচও’র পদ পেতে জালিয়াতি : পুতুলের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

ডব্লিউএইচও’র পদ পেতে জালিয়াতি : পুতুলের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে পতিত স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রবিবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

২০২৫ সালের ২০ মার্চ মিথ্যা তথ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় চাকরি ও সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জমা দেওয়া সিভিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে (বর্তমান নাম বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজ করার মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দেন সায়মা ওয়াজেদ। ওই তথ্য ব্যবহার করে সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পান তিনি।

দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, পুতুল ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ কার্যক্রম চালান। সিভিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে আরও বলা হয়েছে, সিভিতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি খোলা ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না দিয়েই চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘের কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে এসব তথ্য পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুতুল আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পান।

দুদকের এজাহারে বলা হয়, আসামি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ওরফে সায়মা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষকতা বা শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি বা রিভিউ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশ না নিয়েও নিজেকে এই কাজে সম্পর্কিত মর্মে মিথ্যা দাবি করে ২০২৩ সালে ডব্লিউএইচওর আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়ে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৮/৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমে ২০১৭ সালে অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন নিযুক্ত হন সায়মা ওয়াজেদ। ওই পদে কর্মরত অবস্থায় ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় দাখিল করা সিভিতে নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পুতুল লেখেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা/শিক্ষা ম্যানুয়েল রিভিউ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, অটিজম এবং মানসিক সমস্যা সংক্রান্ত কারিগরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187864