অন্ধকারে ডুবেছে পুরো শ্রীলঙ্কা

অন্ধকারে ডুবেছে পুরো শ্রীলঙ্কা

জাতীয় গ্রিডে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণে বিদ্যুৎহীন (ব্লাকআইট) হয়ে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে অন্ধকারে ডুবে গেছে বিভিন্ন এলাকা। দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ন্যাশনাল সিস্টেম অপারেটর (এনএসও)। সংস্থাটির মতে, সঞ্চালন নেটওয়ার্কে অস্থিতিশীলতা দেখা দেওয়ার পর দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে।

এএফপি প্রতিবেদন অনুসারে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যায়। দেশজুড়ে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

 

কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। বাংলাদেশ সময় রাত আটটা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন লঙ্কা (ইডিএল) জানিয়েছে, প্রকৌশলীরা জাতীয় গ্রিডের ত্রুটি সারানোর কাজ করছেন। তাদের ধারণা, অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণেই এ বিপর্যয় ঘটেছে।

বিদ্যুৎমন্ত্রী অনুরা করুণাতিলকা এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজে সহায়তা করতে আমরা বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের অনুরোধ করছি, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেন তারা তাদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন রাখেন।’

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেলে পুরো গ্রিড অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।

 

শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে ৩ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। অথচ দিনের বেলায় দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে।

সরকারের দেওয়া কর সুবিধার কারণে অনেক গ্রাহক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছেন। তারা নিজেদের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করছেন। এর ফলে তৈরি হওয়া ভারসাম্যহীনতা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ।

সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সক্ষমতা হবে ৩৮৮ শতাংশ বেশি।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187798