বগুড়ায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চালু হলো বিশেষ ইউনিট

বগুড়ায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চালু হলো বিশেষ ইউনিট

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহভাবে বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলার সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুজন।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট চালু করা হয়েছে। তবে শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং মশার জীবাণু ধ্বংস করতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় হ্যান্ড মেশিন ও ফগার মেশিন চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বগুড়া শহরে অবস্থিত দুটি সরকারি হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। এরমধ্যে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ১৪ জন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ৩০ জন চিকিৎসাধীন।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালসহ বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ভর্তি আছেন আরও ৩৭ জন রোগী। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে গতকাল ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৩৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন।

তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ হাজার ২৭৮ জন। জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার থেকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনাকালীন প্রস্তুতকৃত আইসিইউ ওয়ার্ডটিকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এত দিন এই হাসপাতালে সাধারণ ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সঙ্গেই ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হতো। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম জানান, যেহেতু ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাই রোগীদের সাধারণ ওয়ার্ডে না রেখে আইসিইউ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। এত দিন এই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী না রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে হাসপাতালে ওয়ার্ডবয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ তীব্র জনবল সংকট রয়েছে।

এই কারণেই মূলত আমরা ডেঙ্গু রোগীদের এত দিন আলাদা করতে পারিনি। এখন যেহেতু রোগী বাড়ছে, তাই এই ওয়ার্ডটি কাজে লাগানো হয়েছে।” এদিকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে আক্রান্তদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়।

প্রথমে একটি ওয়ার্ড চালু করা হলেও পরবর্তীসময়ে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মোরশেদ জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী।

নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১২ জন, যার মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ১ জন নারী। ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও পৌরসভার পক্ষ থেকে নালা-নর্দমা পরিষ্কার কিংবা ফগার মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বগুড়া শহরের জামিলনগরের দুজন বাসিন্দা জানান, মশা নিধনে কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতাই তাঁদের চোখে পড়েনি।

একই অভিযোগ করেন দক্ষিণ কাটনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাইফুন নাহার। তিনি বলেন, “সন্ধ্যা নামার আগে থেকেই মশার উপদ্রব এতটা বেড়ে যায় যে ঘরে কয়েল বা স্প্রে ছাড়া থাকা যায় না। পৌরসভা যদি নিয়মিত মশা নিধনে ভূমিকা রাখত, তবে এই ভোগান্তি কিছুটা কমত।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বগুড়া পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান জানান, শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রতিদিন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

২১টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে মশার লার্ভা ধ্বংস করতে হ্যান্ড মেশিন এবং উড়ন্ত মশা মারতে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। গত এক মাস ধরে এই ক্র্যাশ প্রোগ্রাম প্রতিদিন চলছে। বগুড়া জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে এবং লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187764