পুরোনো বই নিলামে বিক্রির ওয়েবসাইট তৈরি করলেন জবি শিক্ষার্থী মারুফ
সৃজন সাহা, জবি সংবাদদাতা: নিজের পছন্দের পুরোনো বই খুঁজে নেওয়া থেকে শুরু করে নিলামে দর হাঁকিয়ে বই কেনাসহ সবই করা যাবে অনলাইনে। এ সুযোগ তৈরি করতে ‘বিডবই’ (www.bidboi.com) নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিন্যান্স বিভাগের ২১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মারুফ হাসান মজুমদার।
পুরোনো বই কেনাবেচাকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে নিলামভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারুফ। ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের আশপাশে থাকা পুরোনো বই খুঁজে নিতে পারবেন এবং পছন্দের বইয়ের জন্য নিলামে অংশ নিয়ে দর প্রস্তাব করতে পারবেন। অন্যদিকে, নিজের পুরোনো বইও ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত করে বিক্রির সুযোগ রয়েছে।
‘একটি বই, আরেকটি নতুন গল্প’ স্লোগানকে সামনে রেখে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মে বই কেনাবেচার প্রক্রিয়াকে সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে বই খুঁজতে ব্যবহারকারীকে নিজের বর্তমান অবস্থান জানাতে হবে অথবা নির্দিষ্ট এলাকা নির্বাচন করতে হবে। এরপর নির্বাচিত অবস্থানের ২ দশমিক ৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা বইগুলো দেখা যাবে। বইয়ের প্রচ্ছদ, ভেতরের ছবি ও অবস্থা দেখে পছন্দের বই নির্বাচন করা যাবে।
বই কেনার ক্ষেত্রে রয়েছে নিলামে দর প্রস্তাবের ব্যবস্থা। বিক্রেতার নির্ধারিত প্রাথমিক দামকে বেস প্রাইস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রথম বিড বেস প্রাইসের চেয়ে কম হতে পারলেও তা শূন্যের বেশি হতে হবে। পরবর্তী প্রতিটি বিড আগের সর্বোচ্চ দর থেকে অন্তত ১০ টাকা বেশি হতে হবে। ব্যবহারকারীরা নিজের পছন্দমতো দর লিখতে পারবেন অথবা নির্ধারিত প্লাস ও মাইনাস বাটন ব্যবহার করে ১০ টাকা করে দর পরিবর্তন করতে পারবেন।
নিলামের সময়সীমা নির্ধারণ করবেন বিক্রেতা। এ ক্ষেত্রে ১২ ঘণ্টা অথবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো একটি সময় বেছে নেওয়া যাবে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে আর নতুন করে বিড করার সুযোগ থাকবে না। নিলাম শেষে সর্বোচ্চ দর প্রস্তাবকারী বিজয়ী হবেন।
তবে বর্তমানে ওয়েবসাইটটিতে অনলাইন পেমেন্ট ও কুরিয়ার সুবিধা চালু নেই। নিলাম শেষে ক্রেতাকে বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি দেখা করে বইয়ের অবস্থা যাচাই করে সংগ্রহ করতে হবে।
নিজের পুরোনো বই বিক্রি করতে আগ্রহীদের ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এরপর বইয়ের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে বিক্রির পোস্ট তৈরি করা যাবে। বইয়ের কোনো ত্রুটি বা বিশেষ সমস্যা থাকলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি, নিজের তালিকাভুক্ত বইয়ে নিজেই বিড করার সুযোগ রাখা হয়নি।
ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে ওয়েবসাইটটির নির্দেশনায়। লেনদেনের জন্য পরিচিত ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে দেখা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অগ্রিম টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের ক্ষেত্রে অভিভাবক সঙ্গে রাখার পরামর্শও রয়েছে। এ ছাড়া ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত নমুনা বইগুলো প্রকৃত বিক্রির পোস্ট নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়েবসাইট নিয়ে মারুফ হাসান মজুমদার বলেন, “অনেকের কাছে পুরোনো বই পড়ে থাকে, আবার অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় বই তুলনামূলক কম দামে খোঁজেন। এই দুই পক্ষের মধ্যে সহজে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতেই বিডবই নিয়ে কাজ করেছি। নিলামভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বই কেনাবেচাকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলার পাশাপাশি বইয়ের পুনর্ব্যবহার বাড়ানোও আমার অন্যতম লক্ষ্য।”
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187552