দিনাজপুরে আমন ধানের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে উপকৃত কৃষক

দিনাজপুরে আমন ধানের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে উপকৃত কৃষক

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি : দিনাজপুর জেলায় এবারে আমন ধানের পোকা দমনে ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে উপকৃত হচ্ছেন কৃষকেরা। ধানের ক্ষেতে সহজে পোকা দমনে এ পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সদর উপজেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ধান ক্ষেতের পোকা দমনে সফল হচ্ছেন।

আমনের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি হলো, ধানের জমিতে গাছের ডাল, বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি পুঁতে দেওয়া, যা পাখির বসার জায়গা হিসেবে কাজ করে থাকে। এ ডালগুলোতে বসে পাখি ফসলের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খেয়ে ফেলে। ফলে ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমণ কমে যায়। এটি ব্যয়বিহীন, পরিবেশবান্ধব এবং কীটনাশক মুক্ত পদ্ধতি, যা ফসলের উৎপাদন খরচ কমায় এবং নিরাপদ ফসল পেতে সাহায্য করে।

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনাজপুর জেলার সদর উপজেলা কৃষি দপ্তরের মাঠ কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ বছর সদর উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে।

দিনাজপুর আঞ্চলিক কৃষি অধিদপ্তরে পোকা নিধন বিষয় নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত কর্মকর্তা মো. সদরুল আলম বলেন, চাষ ও ফসল উৎপাদনের প্রধান অন্তরায় ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ। জমিতে সার দেওয়ার পর থেকেই ক্ষেতে ক্ষতিকর ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ দেখা দেয়।

এসব পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকেরা কৃষি ও পরিবেশবান্ধব পার্চিং পদ্ধতি এবং ডেড ও আলোর ফাঁদ ব্যবহারে ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তবে এর মধ্যে পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা কৃষিবান্ধব পরিবেশ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, আমরা গত দু’বছর ধরে ধানক্ষেতের পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করে আসছি। আশা করছি এবারে আমন ধানের অধিক উৎপাদন হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187470