পাবনার বেড়ায় ভাঙন আতঙ্ক পেরিয়ে যমুনার তীরে বিনোদন কেন্দ্র
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : একসময় যমুনার ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটত পাবনার বেড়া উপজেলার পেঁচাকোলা গ্রামের মানুষের। নদীর গ্রাসে বিলীন হয়েছে বহু পরিবারের বসতভিটা।
অথচ সময়ের ব্যবধানে সেই ভাঙনপ্রবণ নদীতীরই এখন পরিণত হয়েছে মানুষের অবসর কাটানোর প্রিয় ঠিকানায়। যমুনার বিস্তীর্ণ জলরাশি, খোলা আকাশ আর নদীতীরের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে প্রতিদিন বিকেলে পেঁচাকোলা নৌঘাট এলাকায় ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ।
বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের পেঁচাকোলা নৌঘাট এলাকায় বিকেল গড়াতেই বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। কেউ নদীর পাড় ধরে হাঁটেন, কেউ বসে উপভোগ করেন দিগন্তজোড়া জলরাশি। আবার কেউ পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে মেতে ওঠেন গল্প-আড্ডায়।
নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা সবুজ উদ্ভিদ, বিস্তীর্ণ পানি আর খোলা আকাশের মিতালি জায়গাটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। একসময় যে যমুনা ছিল আতঙ্কের নাম, সেই নদীর তীরই এখন স্থানীয় মানুষের স্বস্তি ও বিনোদনের জায়গা।
সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনার তীর ঘেঁষে কংক্রিটের ব্লক বসিয়ে পাড় সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর পাশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে পাকা সড়ক। সড়কের পাশে রয়েছে ইট-সিমেন্টের বসার জায়গা। সেখানে বসে অনেকে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ কেউ কাটাচ্ছেন প্রিয়জনদের সাথে একান্ত সময়।
পেঁচাকোলার যমুনার তীরে ঘুরতে আসা মনজুর কাদের মহিলা কলেজের গণিত বিষয়ের প্রভাষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পেঁচাকোলার যমুনাপাড়ে এলে মনটা জুড়িয়ে যায়। নদীর অপূর্ব সৌন্দর্য আর নির্মল পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে সত্যিই ভালো লাগে।’
বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘যমুনা-মেঘনা নদীভাঙন প্রশমন প্রকল্পের’ প্রথম পর্যায়ের আওতায় পেঁচাকোলা ঘাট এলাকায় কংক্রিটের ব্লক ও জিও-ব্যাগ ফেলে নদীর তীর সংরক্ষণ করা হয়। এতে এলাকাটি নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পায়। পরে নদীর তীর ঘেঁষে পাকা সড়ক নির্মিত হলে মানুষের চলাচল সহজ হয়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187438