বগুড়ায় স্কুল শিক্ষককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় আজও মানববন্ধন
শহর প্রতিনিধি : বগুড়ায় বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু রায়হানকে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আয়োজনে স্কুলের প্রবেশমুখে এই কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে শিক্ষকেরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং শিক্ষকদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করেন।
মানববন্ধনে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ২০০৬ সাল থেকে আমরা এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি। বহু শিক্ষার্থী এখান থেকে প্রতিষ্ঠিত হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাটি আমাদের দীর্ঘদিনের অর্জনের ওপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারে সজাগ থাকার পাশাপাশি তারা ঠিকমতো ক্লাসে যাচ্ছে কি না নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য অভিভাবকদের আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ শফিকা আক্তার জানান, শিক্ষকের ওপর এই নির্মম হামলায় শিক্ষক সমাজ আতঙ্কিত। শুধু রায়হান স্যারের ওপর নয় এই হামলা শিক্ষক সমাজের ওপর হামলা। আমরা শিক্ষার্থীদের জীবন মান উন্নয়নে শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কখনও শাসন করি কিন্তু এই ঘটনায় আমরা নিরাপদ বোধ করছি না।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করছে। কিন্তুএই ঘটনায় শিক্ষক সমাজ কলঙ্কিত হয়েছে। অভিভাবকেরা সন্তানদের চলাফেরা ও আচরণের প্রতি সযত্ন খেয়াল না রাখলে এমন অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়ানো কঠিন। প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়া হয়েছে এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে, গত সোমবার বিকেলে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে এই ন্যাক্করজনক হামলার ঘটনা ঘটায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শ্রেণি কক্ষে শৃঙ্খলা ভঙের কারণে শিক্ষক তাকে সতর্ক করে অভিভাবককে স্কুলে নিয়ে আসতে বলেছিলেন। এরই জের ধরে ওই শিক্ষার্থী শিক্ষকের ওপর হামলা চালায়। লাঠির আঘাতে শিক্ষকের থুতনি কেটে আটটি সেলাই দেওয়া হয় এবং ঘাড়ে গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ছাত্রকে বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র (টিসি) দিয়ে বহিষ্কার করে এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, শিক্ষককে পেটানোর ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে, এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তার বাবা মো. বিপুল মিয়া। পেশায় ট্রাকচালক ওই অভিভাবক চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমি অত্যন্ত কষ্টে দিন এনে দিন খাই। ছেলেকে কষ্ট করে মানুষ করার চেষ্টা করছি, কখনো তুই করে পর্যন্ত বলি না। এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটাবে ভাবতেই পারিনি। ঘটনার দিন মাগরিবের সময় দোকান থেকে টাকা নিয়ে সে বের হয়ে যায়, তারপর থেকে আর বাড়ি ফেরেনি। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সব জায়গায় খুঁজেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি ঘটনার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে বলেন, ছেলেটাকে খুঁজে পেলে শিক্ষকের পা ধরে ক্ষমা চাইয়ে নেওয়ার ইচ্ছা ছিল।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187374