ঠাকুরগাঁওয়ে কাজ হারাচ্ছেন স্বর্ণকারেরা পেশা বদলাচ্ছেন অনেকে

ঠাকুরগাঁওয়ে কাজ হারাচ্ছেন স্বর্ণকারেরা পেশা বদলাচ্ছেন অনেকে

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: পাঁচ-ছয় বছর আগে ঠাকুরগাঁও শহরের বাজারে ৬০০ থেকে ৭০০ স্বর্ণকার কাজ করলেও এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ২০০ থেকে ২৫০ জনে। কাজ না থাকায় কেউ অটোরিকশা চালাচ্ছেন, কেউ রাজমিস্ত্রির জোগালি, দিনমজুরি বা সবজি বিক্রি করছেন। স্থানীয় স্বর্ণকার ও ব্যবসায়ীদের মতে, সোনার দাম বৃদ্ধি, বিদেশি রেডিমেড গহনার বাজার দখল এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

আপন জুয়েলার্সের কারিগর বিপ্লব কুমার বলেন, এখন হালকা-পাতলা কাজ করে দিনে গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়। আগে তার সাথে চার-পাঁচজন শ্রমিক কাজ করলেও এখন একজনও নেই। কারিগর জয়নাল সিকদার বলেন, একজন দক্ষ স্বর্ণকার হতে অন্তত চার বছর কাজ শিখতে হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এতদিন কম আয় করে এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হওয়ায় নতুন প্রজন্মও এ কাজে আসছে না। জাকির উদ্দীন নামে এক কারিগর বলেন, বর্তমানে কেউ রাজমিস্ত্রির জোগালি করছেন, কেউ অটোরিকশা চালাচ্ছেন, আবার কেউ পানের দোকান দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁও কারিগর স্বর্ণশিল্পী সমিতির সভাপতি সুকুমার রায় মঙ্গল বলেন, কয়েক বছর আগেও কারিগরদের কাজের অভাব ছিল না। এখন অনেকের সমিতির নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার সামর্থ্যও নেই। তার দাবি, বিদেশ থেকে তৈরি ২২ ক্যারেটের রেডিমেড গহনা আসায় স্থানীয়ভাবে গহনা তৈরির অর্ডার কমেছে।

কারিগর সুরেশচন্দ্র বলেন, ক্রেতারা এখন অর্ডার দিয়ে কয়েক দিন অপেক্ষা করার চেয়ে দোকানে থাকা তৈরি বিদেশি ডিজাইনের গহনা কিনতে বেশি আগ্রহী। নাজমা বেগম নামের এক ক্রেতা বলেন, রেডিমেড গহনা পছন্দ হলে সাথে সাথেই কেনা যায়, তাই সেটাই নিই।

স্বর্ণকার মো. লিটন ইসলাম এখন একটি জুয়েলারি দোকানের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আগে সোনার দাম তুলনামূলক কম থাকায় ক্রেতাদের আনাগোনা ও কাজের চাপ বেশি ছিল। এখন সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় ফরমায়েশ কমেছে। বিদেশি তৈরি গহনার কারণে স্থানীয় কারিগরদের কাজ আরও সংকুচিত হয়েছে।

নিউ মিডিয়া জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী গোপাল চন্দ্র বলেন, আধুনিক মেশিনে বিদেশি গহনা দ্রুত তৈরি হওয়ায় ফিনিশিংও আকর্ষণীয় হয়। হাতে যে হার তৈরি করতে চারদিন লাগে, মেশিনে তা একদিনেই তৈরি সম্ভব। তবে এসব মেশিন কিনতে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা বা তারও বেশি লাগে, যা সাধারণ কারিগর বা ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে সম্ভব নয়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187190