রংপুরে আলুবীজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার ১৫ শতাংশও বিক্রি হয়নি
রংপুর প্রতিনিধি : টানা দুই মৌসুম আলু চাষে লোকসানের ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেননি রংপুর অঞ্চলের কৃষকেরা। এর প্রভাব পড়েছে নতুন মৌসুমের আলুবীজ বিক্রিতে। রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) আলুবীজ বিক্রি শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও লক্ষ্যমাত্রার ১৫ শতাংশও অর্জিত হয়নি।
কৃষকদের অনাগ্রহ, বাজারে খাবার আলুর দরপতন এবং বীজ আলুর সাথে খাবার আলুর দামের বড় ব্যবধানের কারণে এবার আলু চাষের মৌসুম শুরুতেই সংকটের ইঙ্গিত দেখা দিয়েছে। বিএডিসি বীজ বিপণন রংপুর আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলায় সংস্থাটির অনুমোদিত ডিলার রয়েছেন ৮১৩ জন।
চলতি মৌসুমে এসব জেলায় ৪ হাজার ৪৭৪ মেট্রিক টন বীজ আলু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিক্রি শুরু হলেও ৮ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ৮২ জন ডিলার প্রায় ৪শ’ মেট্রিক টন বীজ আলু সংগ্রহ করেছেন। সে হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিক্রি হয়েছে মাত্র ১০ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থ্যাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৮৭ শতাংশের বেশি বীজ এখনও অবিক্রিত রয়েছে।
রংপুর জেলায় ২৩০ মেট্রিক টন, কুড়িগ্রামে ২৫ মেট্রিক টন, লালমনিরহাটে ৫০, গাইবান্ধায় ৪৫ ও নীলফামারীতে ৪২ মেট্রিক টন বীজ আলু বিক্রি হয়েছে। বিক্রি বাড়াতে ডিলারদের জন্য ইনসেনটিভ ঘোষণা করেছে বিএডিসি।
তারা ডিলারদের সাথে যোগাযোগ করে বীজ সংগ্রহে উৎসাহিত করছেন। তবে কৃষকদের আগ্রহ না থাকায় আশানুরূপ সাড়া মিলছে না। ডিলারদের আশঙ্কা, কৃষকেরা আলু চাষে আগ্রহী না হলে বীজ সংগ্রহ বাড়িয়ে মজুত করে রাখলেও তা বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিএডিসির বীজ ডিলার আবু আসলাম জানান, এবার আলু মৌসুমে ৫ টন বীজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। কেউ বীজ আলু কিনতে আসছে না। বাকিতেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রি না হলে পুরোটা লস হয়ে যাবে।বিএডিসি রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মাসুদ সুলতান জানান, কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতে আগাম বুকিং দিয়ে ডিলাররা বীজ আলু সংগ্রহ করেন। টানা দুই বছর লোকসানের কারণে এবার কৃষকদের মধ্যে আলু চাষ নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ দেখছেন না। এতে করে বীজ আলু বিক্রিতে ভাটা পড়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187179