বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১৭ পোস্ট অফিসের ১৩টির নিজস্ব ভবন নেই

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ১৭ পোস্ট অফিসের ১৩টির নিজস্ব ভবন নেই

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার নন্দীগ্রামে নিজস্ব ভবন সংকটে চলছে ডাক বিভাগের কার্যক্রম। উপজেলা সদর পোস্ট অফিসসহ মোট ১৭টি পোস্ট অফিসের মধ্যে সরকারি ভবন রয়েছে মাত্র ৪টিতে। বাকি ১৩টির কার্যক্রম চলছে বিদ্যালয়ের কক্ষ, ভাড়া করা দোকানঘর ও পোস্টমাস্টারের বাড়িতে। এর সঙ্গে রয়েছে জনবল ও কর্মপরিবেশের সংকট। এতে সেবাগ্রহীতাদের নিয়মিত ডাকসেবা পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম উপজেলা সদর পোস্ট অফিসে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৯টি। এর মধ্যে পোস্টমাস্টারসহ কর্মরত রয়েছেন ছয়জন। শূন্য রয়েছে তিনটি পদ। এসব শূন্য পদের মধ্যে পোস্টাল অপারেটর, পোস্টম্যান ও রানার পদ রয়েছে একটি করে।

অন্যদিকে, উপজেলার ১৬টি শাখা পোস্ট অফিসে অনুমোদিত ৪৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৪৫ জন। উপজেলার শাখা পোস্ট অফিসগুলোর মধ্যে ধুন্দার, দমদমা ও বিজরুল পোস্ট অফিসে সরকারি ভবন রয়েছে। বাকি ১৩টির নিজস্ব সরকারি ভবন নেই।

পন্ডিতপুকুর, হাজারকী ও বিনগ্রাম পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে ব্যক্তিগত বাড়িতে। চৌদিঘী, ভাটরা, হাটকড়ই, বাঁশো ও ডেরাহার পোস্ট অফিস পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের কক্ষে। রণবাঘা, বোয়ালিয়া, বীরপলী, দাসগ্রাম ও কুন্দারহাট পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে দোকানঘরে।

ডাক বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, নিয়মিত ডাক কার্যক্রমের পাশাপাশি পার্সেল, রেজিস্ট্রি ও স্পিড পোস্টের সেবা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন সেবাগ্রহীতা এসব সেবা নিতে আসেন। মাসে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নন্দীগ্রাম উপজেলা সদরের পোস্টমাস্টার রুহুল আমিন বলেন, আমাদের ভবন সংকট রয়েছে।

১৭টি পোস্ট অফিসের মধ্যে ৪টিতে সরকারি ভবন আছে। বাকিগুলো বাড়ি, ভাড়া করা দোকান ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কক্ষে পরিচালিত হয়। নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সরেজমিনে দেখা গেছে, অস্থায়ী ভিত্তিতে ডাক বিভাগের কার্যক্রম চলছে।

এসব স্থানে দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণ ও সেবাগ্রহীতাদের বসার উপযুক্ত পরিবেশের অভাব রয়েছে। কোনো কোনো পোস্ট অফিস নির্ধারিত সময়ে খোলা না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন সেবাগ্রহীতারা। ফলে প্রয়োজনের সময় ডাকসেবা নিতে এসে তাঁদের ফিরে যেতে হচ্ছে।

ভাটরা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ ধরে ভাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ একটি মাটির ঘরে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে। এ ঘরে সেবাগ্রহীতাদের বসার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। বিভিন্ন নথিপত্র সংরক্ষণ করতেও সমস্যা হয়। নতুন ভবন হলে অনেক সুবিধা হতো। তিনি আরও বলেন, ভাটরা চৌধুরী পরিবারের পক্ষ থেকে ডাকঘরের জন্য তিন শতাংশ জমি দান করা হয়েছে।

ওই জমি পরিদর্শন করা হলেও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ডাকসেবা নিতে আসা এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, চিঠিপত্র ও পার্সেল পাঠাতে এসে অনেক সময় পোস্ট অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। চিঠি বিলি করতে গেলে পোষ্ট অফিস বন্ধ থাকে। সরকারি ভবন হলে অন্য কর্মচারীরাও সেখানে থাকতে পারতেন। এতে সেবাগ্রহীতাদের সুবিধা হতো।

বগুড়া ডাক বিভাগের পোষ্ট অফিস পরির্দশক মঞ্জুরুল আলম বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি, অর্থ বরাদ্দসহ নানা কার্যক্রম রয়েছে। সাধারণত দান করা জমিতে ডাকঘর স্থাপন করা হয়। নন্দীগ্রামের ভাটরা পোস্ট অফিসের জন্য জমি পাওয়া গেছে। ভবন নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন পোস্ট অফিসে শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম কামাল বলেন, ভবন নির্মাণে স্থানীয়ভাবে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা করব। সরকারি ভবন হলে ডাকসেবার মান বাড়বে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187167