সাফল্যের দুই দশকে শিশু শিল্পী থেকে নায়িকা’রূপে দীঘি
অভি মঈনুদ্দীন ঃ শিশুশিল্পী হিসেবেই সিনেমাতে অভিনয় করে তিনি নিজের নামকে ব্র্যাণ্ড-এ পরিণত করেছিলেন। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘কাবুওয়ালী’ সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন এই সময়ের দর্শকপ্রিয় নায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। সিনেমাটি ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট মুক্তি পায়। তবে সিনেমাতে অভিনয়ে আসার আগেই দীঘি গ্রামীন ফোনের একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেই সারা দেশজুড়ে আলোচনায় চলে আসেন দীঘি। দীঘির বাবা সুব্রত’রও সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করার মধ্যদিয়ে সিনেমাতে যাত্রা শুরু।
দীঘি’র মা দোয়েলও ছিলেন একজন নায়িকা। মূলত মায়ের প্রবল আগ্রহের কারণেই দীঘির বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে উঠা এবং পরবর্তীতে সিনেমায় শিশু চরিত্রে অভিনয় করা। কাবুলিওয়ালা’র পর দীঘি শিশুশিল্পী হিসেবে ‘চাচ্চু’,‘ দাদী মা’,‘ সাজঘর’, ‘ অবুঝ শিশু’,‘ কপাল’,‘ বাবা আমার বাবা’,‘ এক টাকার বউ’সহ আরো বেশকিছু সিনেমাতে অভিনয় করেন। প্রাপ্তবয়সের একজন নায়িকা হিসেবে তার প্রথম সিনেমা ছিলো দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘তুমি আছো তুমি নেই’ সিনেমাটি। এরপর ‘টুঙ্গি পাড়ার মিয়া ভাই’,‘ মুজিব একটি জাতির রূপকার’.‘ শ্রাবণ জোৎস্নায়’ এবং সর্বশেষ ‘জংলি’ সিনেমাতে অভিনয় করেন। সুমন ধরের পরিচালনায় দীঘি প্রথম ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেন ‘চিঠি’তে। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন ইয়াশ রোহান। কিছুদিন আগে বঙ্গ’তে মুক্তি পায় দীঘি অভিনীত ওয়েবফিল্ম ‘প্রিয় প্রাক্তন’।
ইফতেখার মাহমুদ ওসিন পরিচালিত এই ওয়েব ফিল্মে ‘তমা’ চরিত্রে নিখুঁত অভিনয় করেছেন দীঘি। আর এ কারণেই গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড’র ২৫তম আসরে প্রিয় প্রাক্তন’-এ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন দীঘি। অবশ্য এই দীঘি ছোটবেলায় তিনটি সিনেমা ‘কাবুলিওয়ালা’,‘ এক টাকার বউ’ ও ‘চাচ্চু আমার চাচ্চু’তে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। প্রার্থনা ফারদিন দীঘি এই মুহুর্তে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। এক সপ্তাহ পর তিনি দেশে ফিরবেন।
নিজের অভিনীত সর্বশেষ কাজ, ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড এবং অভিনয় জীবন প্রসঙ্গে দীঘি বলেন,‘ আমার শিশুবেলাটাই ভীষণ বর্ণাঢ্য ছিলো। সবাই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতো। বিশেষত খুউব মিস করি মান্না আঙ্কেল’কে। আম্মুর আঙ্গুল ধরে ধরেই সিনেমার অলিতে গলিতে আমার পথচলা। একটু একটু করে অভিনয়ে আসা। বাবার সাপোর্টতো ছিলোই। একসময় আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন আম্মু। ভীষণ শূণ্যতা ভর করলো আমাদের জীবনে। তারপরও জীবনের নিয়মে জীবন এগিয়ে যায়। বাবা সব সামলে নেবার চেষ্টা করেন। এখন আমার পুরো দুনিয়াটা জুড়েই আমার বাবা। বাবা আমাকে ভীষণভাবে আগলে রাখার চেষ্টা করেন। আমিও চেষ্টা করছি ভালো ভালো কাজ করার। ভালোবাসার অনেক রং, কিন্তু কার জীবন কোন রঙে রাঙ্গিয়েছে ভালোবাসা? তা জানতে হলে প্রিয় প্রাক্তন দেখতে হবে। ধন্যবাদ ঢালিউড অ্যাওয়ার্ড পরিবারকে আমাকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দেশের কাজের জন্য সম্মানীত করায়।’
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187166