জনপ্রিয় অভিনেতা চ্যালেঞ্জারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জনপ্রিয় অভিনেতা চ্যালেঞ্জারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা চ্যালেঞ্জার। স্বল্প সময়ের অভিনয়জীবনেই নিজের সহজাত অভিনয়দক্ষতা, সাবলীল সংলাপ ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। পর্দায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় না করেও নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীতে দর্শকের মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার।

আজ ১২ অক্টোবর, এই গুণী অভিনেতার প্রয়াণের ১৬ বছর পূর্ণ হলো। ২০১০ সালের এই দিনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। তবে সময়ের ব্যবধান পেরিয়েও তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।

চ্যালেঞ্জারের ডাকনাম সাদেক। তাঁর পুরো নাম এ এস এম তোফাজ্জল হোসেন। অভিনয়জগতে ‘চ্যালেঞ্জার’ নামেই দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। ধনী-গরিব, নাপিত কিংবা মন্ত্রী—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, চরিত্রের ব্যাপ্তি নয়, অভিনয়দক্ষতাই একজন শিল্পীকে দর্শকের কাছে স্মরণীয় করে তোলে।

খ্যাতিমান নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘হাবলংগের বাজার’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে চ্যালেঞ্জারের। পরে একই পরিচালকের ‘দুই দুয়ারী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর ‘শ্যামল ছায়া’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ ও ‘দারুচিনি দ্বীপ’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন। এ ছাড়া আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘কাল সকালে’ এবং শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘লাল-সবুজ’ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি।

টেলিভিশন নাটকে চ্যালেঞ্জারের জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। দুই শতাধিক নাটকে অভিনয় করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সব বয়সী দর্শকের পরিচিত মুখ। হুমায়ূন আহমেদের ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন’ নাটকে মন্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ পরিচিতি পান তিনি। ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’ ধারাবাহিকেও তাঁর অভিনয় ছিল উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ‘খোয়াবনগর’, ‘পিশাচ মকবুল’, ‘আজিজ সাহেবের পাপ’, ‘বৃক্ষমানব’, ‘জুতা বাবা’ ও ‘ওয়ারেন্ট’-সহ বহু নাটকে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এই অভিনেতা। সালাহউদ্দিন লাভলু পরিচালিত ‘ভবের হাট’ ধারাবাহিকেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

চ্যালেঞ্জারের জীবন ছিল সংগ্রাম ও অধ্যবসায়ের গল্প। কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে পরিবারের দায়িত্ব পালন এবং ভাই-বোনদের মানুষ করেছেন তিনি। অভিনয়জগতে এসে ধীরে ধীরে অর্জন করেন পরিচিতি, জনপ্রিয়তা ও আর্থিক সাফল্য। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া।

চ্যালেঞ্জার ১৯৫৯ সালের ১০ আগস্ট ঢাকার খিলগাঁওয়ের হাজীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তাঁর বোন অভিনেত্রী মনিরা মিঠু।

২০১০ সালের ১২ অক্টোবর মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন চ্যালেঞ্জার। তাঁর প্রয়াণে বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্র হারায় একজন প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীকে। বড় কোনো পুরস্কারের স্বীকৃতি না থাকলেও তাঁর অভিনীত চরিত্রের জনপ্রিয়তা ও দর্শকের ভালোবাসাই হয়ে রয়েছে তাঁর শিল্পীজীবনের বড় প্রাপ্তি।

মৃত্যুর ১৬ বছর পরও পুরোনো নাটক ও চলচ্চিত্রে চ্যালেঞ্জারের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ার হলেও অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রের মধ্য দিয়ে বাংলা বিনোদনজগতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। চ্যালেঞ্জার আজ নেই, কিন্তু তাঁর অভিনয়, সংলাপ আর স্মরণীয় চরিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি বেঁচে আছেন দর্শকে

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/187077