ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটি

ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটি

সীমান্ত কয়েকদিন যাবৎ স্কুলে আসছে না। তার বন্ধু অয়ন, তূর্য ও তনয় বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, সীমান্ত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। বিষয়টি জানতে পেরে অয়ন স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে একটি জরুরি সভা ডাকে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সবাই মিলে হাসপাতালে সীমান্তকে দেখতে যাবে। হাসপাতাল থেকে ফিরে তারা এডিস মশার জন্ম ও বংশবিস্তারের সম্ভাব্য জায়গাগুলো খুঁজে বের করবে।

গ্রামে অনেকেই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গুর জীবাণু মানুষের শরীরে ছড়ায়। তাই অয়ন সবাইকে বলল, এডিস মশার বংশবিস্তার বন্ধ করতে হলে আমাদের পুরো গ্রামকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরদিনই স্কুল গিয়ে স্যারের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে তারা সীমান্তকে হাসপাতালে দেখতে গেল। হাসপাতাল থেকে ফিরে সবাই সিদ্ধান্ত নিল, এই কাজগুলো প্রতিদিন স্কুল শেষে বিকেলবেলা করা হবে। আর এ জন্য একটি দল গঠন করা দরকার। বিকেলেই সবাই বসে একটি কমিটি গঠন করল। দলের নাম দেওয়া হলো—’ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটি’।

প্রথমে এগারোজন সদস্য নিয়ে কাজ শুরু করল ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটি। তারা পুরো গ্রামের যেখানেই আবর্জনা ও জঙ্গল ছিল, সেগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করল। গোপাল মাস্টারের বাড়িতে কয়েকটি ডাবের খোসা পড়ে ছিল। সেগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছিল। ডাবের খোসাগুলো দ্রুত উপুড় করে রাখা হলো। রফিক কাকুর বাড়িতে একটি পরিত্যক্ত বালতিতে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে ছিল। সেই পানি ফেলে দিয়ে বালতিটি উল্টে রাখা হলো। এভাবে গ্রামের সবার বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া হলো এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হলো। ইতিমধ্যে সীমান্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এল এবং সেও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটিতে যোগ দিল। গ্রামে কয়েকটি জায়গায় মজে যাওয়া পুকুর ও ডোবা ছিল, সেগুলোও পরিষ্কার করা হলো। কমিটির সদস্যদের এমন ভালো কাজ দেখে গ্রামের বড়রাও উৎসাহিত হলেন এবং তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন। 

সবাই মিলে গ্রামকে এডিস মশার বংশবিস্তার মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগল। একদিন অয়ন বলল, আমাদের স্কুলের চারপাশটাও তো ঘন জঙ্গলে ভরা। হেড স্যারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সব ছাত্র-ছাত্রী মিলে স্কুলের চারপাশটা একদম পরিষ্কার করে ফেলল। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও সবাই কড়া নজর রাখল। এভাবে কয়েকদিনের পরিশ্রমে গ্রামের চেহারা বদলে গেল। সবাই সচেতন হয়ে উঠল।

বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে আছে কি না, সেদিকেও নিয়মিত নজর দেওয়া শুরু হলো। ফলে গ্রামে এডিস মশার উপদ্রব একেবারেই কমে গেল এবং ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও শূন্যে নেমে এল। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্কুলের শিক্ষকেরা মিলে এমন একটি দারুণ কাজ করার জন্য  ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটি’কে পুরস্কৃত করলেন। কমিটির সবাই খুব খুশি হলো। অয়ন পুরস্কার হাতে বলল, আমরা সবাই মিলে এভাবে চেষ্টা করলে আমাদের গ্রামকে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে পারব।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/186763