বগুড়ার সোনাতলায় অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে বিজ্ঞান একাডেমি
সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী এবং বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বগুড়ার সোনাতলায় ২০০৪ সালে নির্মিত হয়েছিল বিজ্ঞান একাডেমি। একসময় শিক্ষার্থীদের কাছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হলেও বর্তমানে অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হতে বসেছে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা। দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় বিজ্ঞান একাডেমির অবকাঠামো ও বিভিন্ন উপকরণ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে হাতে-কলমে বিজ্ঞানচর্চার সুযোগ করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, অনুসন্ধিৎসা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই ২০০৪ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফ হোসেন বিজ্ঞান একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।
কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে সেই উদ্দেশ্য এখন অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজ্ঞান একাডেমি নিয়মিতভাবে ব্যবহার ও পরিচর্যা না হওয়ায় এর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। টিন সেডের ভবন ও স্থাপনার বিভিন্ন অংশে সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানচর্চার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উপকরণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করা হলে সেগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শ্রেণিকক্ষে বই পড়ে বিজ্ঞানের বিষয় জানা আর হাতে-কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শেখার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। সোনাতলার বিজ্ঞান একাডেমি কার্যকর থাকলে শিক্ষার্থীরা এখানে বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ পেত।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহী করতে এমন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছিল, অথচ সেটি যদি অযত্নে পড়ে থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। দ্রুত এটি সংস্কার করে নিয়মিত কার্যক্রম চালু করা দরকার।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্বীকৃতি প্রামানিক বলেন, বিজ্ঞান একাডেমিকে শুধু একটি ভবন হিসেবে সংরক্ষণ করলে হবে না। সেখানে নিয়মিত বিজ্ঞান ক্লাস, হাতে-কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিজ্ঞান মেলা, কুইজ, বিতর্ক, উদ্ভাবনী প্রকল্প ও বিজ্ঞানবিষয়ক কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা-ভাবনা ও নতুন কিছু করার আগ্রহ তৈরি হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/186751