আগুনে পোড়ে ঝিনুক, বাঁচে ৮ পরিবার

আগুনে পোড়ে ঝিনুক, বাঁচে ৮ পরিবার

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে অনেক পুরোনো পেশা। বদলে গেছে মানুষের জীবন-জীবিকার ধরণ। কিন্তু দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া (যুগিপাড়া) গ্রামে এখনো টিকে আছে ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির সেই পুরোনো পদ্ধতি।

অনেকে এ পেশা ছেড়ে গেলেও বংশপরম্পরায় শত বছর ধরে চলে আসা এই বাপ-দাদার পেশাকে এখনো আঁকড়ে ধরে রেখেছেন ওই গ্রামের ৮ পরিবার। তাদের কাছে এই পেশা শুধু জীবিকার অবলম্বন নয়, চুনিয়াপাড়ার পরিচয়েরও অংশ। এসব নারী-পুরুষের জীবিকা এখনো নির্ভর করছে ঝিনুক থেকে চুন তৈরির ওপর। তাদের পরিচয়েই নামকরণ হয়েছে এই গ্রামের নাম।

উপজেলার রাজারামপুর চুনিয়াপাড়ায় দেখা যায়, চুনিয়া পরিবারের নারী-পুরুষরা সবাই ঝিনুক থেকে চুন তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ঝিনুক সংগ্রহ করে আনছেন, কেউ সেগুলো রোদে শুকাচ্ছেন, আবার কেউ মাটির চুল্লিতে ঝিনুক সাজিয়ে আগুন জ্বালাচ্ছেন। এরপর দীর্ঘ সময়ের উত্তাপে ঝিনুক পরিণত হচ্ছে সাদা ছাইয়ে। সেই ছাই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করছেন চুন। এভাবেই বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে শত বছরের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছেন এখানকার এই ৮ পরিবার।

কারিগররা জানান, ফুলবাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার নদী-নালা ও খাল-বিল থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহের পর ঝিনুকগুলো প্রথমে রোদে শুকানো হয়। পরে বিশেষভাবে তৈরি মাটির চুল্লিতে সাজিয়ে উচ্চ তাপে দীর্ঘ সময় পোড়ানো হয়।

পোড়ানোর পর ঝিনুক সাদা ছাইয়ের মতো হয়ে গেলে তা বিশেষ প্রক্রিয়ায় মিশ্রিত করে তৈরি করা হয় চুন। একজন কারিগর প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ কেজি চুন তৈরি করেন। পরে এসব চুন পাইকারি ও খুচরা দরে স্থানীয় হাট-বাজারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয়। এই পদ্ধতিতে তৈরি চুন, স্থানীয় হাট-বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে পান খাওয়ার জন্য ‘ঝিনুক চুন’ জনপ্রিয়।

স্থানীয় চুন কারিগর নেপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বর্তমানে খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় আগের মতো সহজে ঝিনুক পাওয়া যায় না। এর সাথে জ্বালানির দামও বেড়েছে। ফলে চুন তৈরির খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।দ

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আহমেদ হাসান বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে চুন তৈরির মূল উপাদান ঝিনুকের উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে মৎস্য বিভাগের পরামর্শ নেওয়া হবে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করে থাকে। তাদের সাথে পরামর্শ করে কারিগরদের ঋণপ্রাপ্তিতে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/186570