সুনামগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, আহত ২০

সুনামগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষ, আহত ২০

সুনামগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনার জেরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে তাহিরপুর সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সংঘর্ষে বীরনগর গ্রামের ওয়াজ আলীর ছেলে মাইনুদ্দিন (৩৫), সোবহান মিয়ার ছেলে আশিষ মিয়া (৪০), মো. আলীমের ছেলে মো. রেজাউল (৩৫) ও নবী হোসেনের ছেলে খোকন মিয়া (৩৬) গুরুতর আহত হন। তাঁরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে বীরজয়-লক্ষ্মী-ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল মধ্য তাহিরপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক জালাল মিয়ার অটোরিকশায় গিয়ে পড়ে। এ নিয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ মিয়ার সঙ্গে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে ওই দিন বিকেলে তাহিরপুর বাজারে ধুতমা গ্রামের জসীম উদ্দিনকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কয়েকজন কর্তৃক মারধরের অভিযোগ ওঠে। অপর পক্ষের হাফিজ মিয়াকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর পক্ষের লোকজনের। উভয় পক্ষের মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইকে মারামারিতে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়। আজ বুধবার সকালে বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ও ধুতমা গ্রামের লোকজন একত্র হয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দিকে এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, ক্রিকেট খেলার বল অটোরিকশায় পড়ার ঘটনায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মসজিদে মাইকিংয়ের পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। ঘটনার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/186537