ঢাকায় হত্যার পর লাশ কার্টনে মুড়িয়ে নীলফামারীতে এনে মাটিচাপা
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : ঢাকায় নিখোঁজ হওয়ার ২০ দিন পর টাঙ্গাইলের গোপালপুরের কলেজছাত্র রাকিবুল ইসলাম (১৯)-এর মাটিচাপা মরদেহ নীলফামারীর ডিমলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় রাকিবকে হত্যার পর কার্টনে ভরে রাতের আঁধারে ডিমলায় এনে বাড়ির পাশে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
হত্যার ঘটনা আড়াল করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে রাকিব জীবিত আছেন এমন ভিডিও তৈরি করে পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এ ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার উদ্দোমপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের খাদেমুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় কোচিং করতে যান।
গত ১ আগস্ট তিনি রাজধানীর কাফরুল থানার শেওড়াপাড়ার একটি মেসে ওঠেন। সেখানে অনলাইনের মাধ্যমে ডিমলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া বসুনিয়াপাড়া গ্রামের আফসার আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে তার পরিচয় হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৬ আগস্ট রাকিব মামুনের ভাড়া বাসায় গেলে দু’জনের মধ্যে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে রাকিবকে হত্যা করে মরদেহ কার্টনে ভরে ঘটনার রাতেই ঢাকা থেকে ডিমলায় নিয়ে আসা হয়। পরে ১৭ আগস্ট গভীর রাতে মামুনের বাড়ির পাশে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে নতুন মোড় আসে। গতকাল মঙ্গলবার তাকে ডিমলার বালাপাড়া এলাকায় নিয়ে আসা হয়। তার দেখানো স্থান অনুযায়ী ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় কাফরুল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাটির নিচ থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে।
কাফরুল থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র রায় বলেন, রাকিবের বড় ভাই প্রথমে নিখোঁজের জিডি করেছিলেন। পরে অপহরণ মামলা হলে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডিমলা থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া এলাকা থেকে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/186439