বগুড়ার শেরপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার ১

বগুড়ার শেরপুরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার ১

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: শেরপুরে শরিফ শেখ (৩৪) নামে এক মুরগির খামারিকে অপহরণের পর ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে না পওয়ায় কয়েক দফায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার ইজাহারভুক্ত আসামি মিঠু হোসেনকে গ্রেফতর করেছে। গত বুধবার দিবাগত রাতে সাদিয়া খাতুন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া চারমাথা এলাকা থেকে শরিফ শেখকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে রাসেল বাবু হিমুর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিতে না পারায় তাকে দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

ভুক্তভোগী শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, হিমুর অফিস থেকে তাকে মিঠু হোসেনের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানেও তাকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া ও নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে সেখানেও মুক্তিপণের টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

শরিফ জানান, অপহরণের পাঁচ দিন পর বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুরের মজিবর রহমান মজনু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। এদিকে একই ঘটনায় বগুড়া জেলা বাস-মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেনকেও রাসেল বাবু হিমুর অফিসে ডেকে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। কবির হোসেনের দাবি, সেখানে একপর্যায়ে তাকেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

শরিফ শেখ বর্তমানে মুরগির খামারের ব্যবসা করেন। এর আগে তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। শরিফের পরিবারের দাবি, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি টাকা পেয়েছিলেন। ওই টাকা দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেন।

দসেই অর্থের বিষয়টি জেনে তাকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। শরিফের বাবা হারেজ শেখ বলেন, আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে কয়েক দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

পুলিশ জানায়, মামলার আসামি মিঠু হোসেনকে গ্রেফতর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/186162