গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে মৌসুম শেষেও বাজার দখল করে আছে কাটিমন আম
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের আমের মৌসুম শেষ হয়েছে বেশ আগেই। বাজারে এখন দেশি-বিদেশি নানা ফলের সমাহার। তবে মৌসুম শেষ হলেও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বাজারে মিলছে পাকা কাটিমন আম। বারোমাসি জাতের এ আমের সরবরাহ ঘিরে স্থানীয় বাজারগুলোতে তৈরি হয়েছে আলাদা চাহিদা।
সরেজমিনে পলাশবাড়ী পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, ফলের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে পাকা কাটিমন আম। মৌসুমের বাইরে আমের স্বাদ নিতে অনেক ক্রেতাই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে দাম বেশি হওয়ায় কেউ কেউ পরিমাণে কম কিনছেন। অফ-সিজনে কাটিমনের দাম বেশি থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা বাড়তি লাভের আশা করছেন। একইসাথে বছরের বিভিন্ন সময়ে আম বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ফল ব্যবসার সাথে জড়িতদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে আগ্রহ। পলাশবাড়ী পৌর শহরের ডাকবাংলো মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী সামাদ বলেন, আমের মৌসুম শেষ হওয়ার পরও কাটিমন আম বাজারে থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহ রয়েছে। আম কিনতে আসা ক্রেতা ও সাংবাদিক পাপুল সরকার বলেন, আমের দাম কিছুটা বেশি হলেও মৌসুমের বাইরে পাকা আম পাওয়া যাচ্ছে, এটাই আনন্দের। স্বাদও বেশ ভালো।
পলাশবাড়ীর আমের আড়তদার সেলিম জানান, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কাটিমন আম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ আমের দাম ৪ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে। আমের মান, আকার ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দামের পার্থক্য হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা সোহেল বলেন, আধুনিক জাতের কাটিমন আম চাষ এবং কৃষকদের উন্নত পরিচর্যা পদ্ধতি আম উৎপাদনের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনছে। শুধু গ্রীষ্মকালেই নয়, বছরের বিভিন্ন সময়ে আম উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকেরা বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা পাচ্ছেন।
কৃষিবিদ খোরশেদ বলেন, অফ-সিজনে আম উৎপাদনের এ ধারা আরও বিস্তৃত হলে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি ফল সংগ্রহ, পরিবহন ও বিপণন ঘিরে স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/186023