ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান
ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্মতিক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রক্টর ইসরাফিল প্রামাণিক রতন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন শাওন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শামিম আকতার শুভ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নূর আলম ভূঁইয়া ইমনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পথ দেখিয়েছে। দেশের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ ভিশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে ইতোমধ্যে ২০০টি ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও ডাস্টবিন দেওয়া হবে।
তবে ডাস্টবিন স্থাপনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ রাস্তায়, টিএসসি কিংবা ক্যাম্পাসের অন্য কোথাও ময়লা না ফেলেন। টিএসসি, শাহবাগ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ভাসমান হকারদের নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। হকারদের তালিকা করে পরিচয়পত্রের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার দেশের ঐতিহ্য ও গর্বের স্থান। কোনোভাবেই এ স্থানকে অপরিচ্ছন্ন রাখা যাবে না। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।’ পরিচ্ছন্নতা শুধু অন্যের মাধ্যমে করিয়ে নেওয়ার বিষয় নয়; এ বিষয়ে প্রত্যেকের নিজের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। উপাচার্য বলেন, এ কর্মসূচি শুধু এক দিনের জন্য সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না।
সারা বছরই পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। কোনো অনুষ্ঠান শেষে ক্যাম্পাসে যেন এক টুকরো পলিথিন, টিস্যু কিংবা বাদামের খোসাও পড়ে না থাকে, সে দায়িত্ব সবার নিতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথি, ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা একটি র্যালিতে অংশ নেন।
র্যালিটি টিএসসি থেকে কলাভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ক্যাম্পাসে স্থাপিত নতুন ডাস্টবিন উদ্বোধন করা হয়। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অপরিচ্ছন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশক নিধন অভিযান শুরু করা হয়।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/185972