জয়পুরহাটের কালাইয়ে সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের খোয়ার সাথে মাটি ও রাবিশ ব্যবহার
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের কালাইয়ে পাকাসড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেও থামাতে পারছেনা কাজ। উল্টো কাজ বন্ধের হুমকী ঠিকাদারের।
নির্মাণ কাজে নিম্নমানের খোয়া, সাথে রাবিশ এবং মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলীর সাথে যোগসাজস করে প্রকাশ্য দিবালোকে সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে ঠিকাদার। বাঁধা দিয়েও কাজ বন্ধ হচ্ছে না। অভিযোগ করার পর আগের চেয়ে বর্তমানে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নে হারুঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তর ভাবকি গুচ্ছগ্রাম পর্যন্ত ১ হাজার ২৪৫ মিটার সড়ক পিচ ঢালাইয়ের কাজে উপযোগী করতে নির্মাণ কাজ চলছে। এ সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী এ কাজের প্রাক্কলণ ব্যয় নিয়ে নির্মাণাধীন সড়কের পাশে সাইনবোর্ড ঝুলানোর কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।
তবে কাজটি বাস্তবায়ন করার কথা জয়পুরহাটের রাবা কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের । যার স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাইয়ুম। কিন্তু কাজটি বাস্তবায়ন করছেন জাহেদ হাসান নামে এক ব্যক্তি। মুলত তিনি এই কাজের সাব-ঠিকাদার। জাহেদ হাসান রাবা কনস্ট্রাকশনের নিকট থেকে কাজটি ক্রয় করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে মাটি খনন করে ভরাটের পর ইটের বেড প্রস্তুত করতে নিম্নমানের ইটের খোয়ার পাশাপাশি নম্বরবিহীন (গড়াই) ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ইটে হাতের চাপ দিলেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ইটের গুঁড়া বা রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার বালুর সাথে খননের মাটিও ব্যবহার করছে ঠিকাদারের লোকজন।
ওই সড়ক নির্মাণ কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় প্রকৌশল অফিসের লোকজন দেখেও না দেখার ভান করছেন। তিনি অনেক সময়ই থাকেন না। ঠিকাদার যা খুশি তাই করে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৌশলী নিজেই এ মানহীন কাজের সহযোগিতা করছেন। বার বার অভিযোগ করেও কাজ বন্ধ হচ্ছেনা।
উত্তর ভাবকি গ্রামের বাসিন্দা দিলবর হোসেন,সিরাজুল ইসলাম,কাজেম উদ্দিন ও হারুঞ্জা গ্রামের কমেলাবানু বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে আমাদের অপরাধ হয়েছে। প্রকৌশলী ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে আমাদেরকে কাজ বন্ধ করে দিবে বলে হুমকি দিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশলী টাকা খেয়ে এগুলো করছেন। তিনি আরও বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের পাশাপাশি ইটের সঙ্গে রাবিশ এবং বালুর সাথে মাটি দেওয়া হচ্ছে। প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও নিম্নমানের কাজ বন্ধ করছেন না। তারা আরও বলেন, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রকল্প দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তদারকি থাকা সত্ত্বেও নিম্নমানের উপকরণ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ?
এ ব্যাপারে রাবা কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমি কাজ পাওয়ার পর জাহেদ হাসানের কাছে বিক্রি করেছি। তিনি সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন। এই কাজের পুরো দায় তার। তবে সাব-ঠিকাদার জাহেদ হাসান বলেন, পিরোজপুর থেকে এসে এই কাজ করছি, কাজটি ক্রয় করতেই ঠকেছি। ছাত্র মানুষ, লাভের আশায় কাজ করে এখন বড় বিপদে পড়েছি। যেখানে খুব খারাপ অবস্থা, সেখান থেকে খোয়া তুলে নিব।
সড়কটির কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আবু জাফর বলেন, আমি চেষ্টা করেছি যাতে কাজটি ভালো হয়। তারা যে অভিযোগ করছে তা সত্য।
উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলী এসে কাজটি পরিদর্শন করে গেছেন। বর্তমানে সড়কের কাজ বন্ধ আছে। নিম্নমানের সামগ্রী তুলে নিয়ে ভালমানের সামগ্রী ব্যবহারের জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/185892