জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

জামালপুরে গৃহবধূ হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় গৃহবধূ মঞ্জুরা খাতুন হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা।

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে কয়েকশ গ্রামবাসী অংশ নেন।

বিক্ষোভ মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মানববন্ধনে মিলিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মঞ্জুরা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর আগে শেরপুর সদর উপজেলার চর এলাকার আহাম্মদ আলী মোল্লার মেয়ে মঞ্জুরা খাতুনের সঙ্গে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চর এলাকার সুজন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে দাবি করেন তারা।

নিহতের মা রিনা খাতুন বলেন, আমার মেয়েকে যারা নির্যাতন করে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আসামিরা যেন কোনোভাবেই পার না পায়।

নিহতের বোন আঞ্জুরা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই মঞ্জুরাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। শেষ পর্যন্ত আমার বোনকে হারাতে হয়েছে। আমরা আইনের মাধ্যমে এ হত্যার বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, মঞ্জুরার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

আরেক বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, একজন নারীকে এভাবে হারানোর ঘটনায় আমরা মর্মাহত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

এ ঘটনায় নিহতের মা রিনা খাতুন বাদী হয়ে মঞ্জুরার স্বামী সুজন মিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এখনও আদালত থেকে কোনো মামলার নথি বা নির্দেশনার কপি হাতে পাইনি। নথি পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/185764