শরতের আবহে বাজতে শুরু করেছে দুর্গাপূজার আগমনী সুর

শরতের আবহে বাজতে শুরু করেছে দুর্গাপূজার আগমনী সুর

স্টাফ রিপোর্টার: নীলআকাশে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘে শরতের আবহে দুর্গাপূজার আগমনী সুর বাজতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কাঠামোর গায়ে মাটি পড়েছে, ঢাকের রিহার্সালও শুরু হয়ে গেছে। আর মাত্র ১৫ দিন বাকি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার।

এই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বগুড়ার হিন্দুসম্প্রদায়ের প্রতিমা তৈরির শিল্পীদের দম ফেলার ফুরসৎ নেই। সময়মত হস্তান্তর করার জন্য দিন-রাত সমানতালে কাজ করছেন প্রতিটি শিল্পী ও কারিগর। অন্যদিকে আয়োজকরাও মন্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে কিভাবে আলোকসজ্জা হবে তার পরিকল্পনা করছেন।

পুঞ্জিকা মতে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গাপূজা। এবছর দশভুজার আগমন হবে ঘোড়ায়। ফিরে যাবেন নৌকায়। আর এই বিশেষ ক্ষণের  জন্য দিন গুনছেন প্রতিটি ভক্ত অনুরাগী। এবার কেবল অপেক্ষা ঢাকের শব্দের।

এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বগুড়া সদরসহ আশেপাশের বিভিন্ন মন্ডপে শিল্পীরা মন্ডপ এবং মন্ডপের বাইরে তাদের  প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এখন তা প্রায় শেষের পথে। প্রতিটি কারখানায় শিল্পীরা শেষ কাদামাটির প্রলেপ লাগাচ্ছেন সকাল থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত। রোদে শুকানোর পর রং তুলির আঁচড় এবং অলংকরণ করে ফুটিয়ে তুলবেন সৌন্দর্য। এদিকে আয়োজকরাও সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দৌঁড়ঝাপ করছেন।

বগুড়া সদরের উত্তর চেলোপাড়া নববৃন্দাবন হরিবাসর মন্দির প্রাঙ্গণে হিন্দুসম্প্রদায়ের ‘বিশ্ব কর্মা প্রতিমা তৈরির কারখানা’। কারখানার স্বত্বাধিকারী কাজল চন্দ্র প্রামানিক জানান, এবছর বগুড়া সদর, আশেপাশের উপজেলাসহ জামালপুর, নওগাঁ জেলা থেকে ১৮টা প্রতিমা সেটের অর্ডার পেয়েছি।

গতবারের চেয়ে এবার অর্ডার কম নিয়েছেন। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে প্রতিটি জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কারিগর শ্রমিকদের খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তবুও সাজসজ্জা ও কাজের ওপর নির্ভর করে প্রতিটি সেট ২৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকায় অর্ডার নিয়েছেন।

অপরদিকে চেলোপাড়া এলাকার আরও একটা কারখানা লক্ষ্মী প্রতিমা হাউস। এর স্বত্বাধিকারী জয়ন্ত কুমার জানান, গতবছর  তিনি  মন্ডপে  মন্ডপে গিয়ে বানিয়ে দিয়ে এলেও এবছর তিনি তাদের কারখানায় প্রতিমা সেট বানাচ্ছেন। পূজা শুরুর আগের দিন পর্যন্ত কাজ চলবে।

বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র পরিমল চন্দ্র দাস জানান, এবার বগুড়া জেলায় ৫৯৩টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/185679