মাঝআকাশে পাইলটদের সংঘর্ষ, সৌদিতে নিরাপদে নেমে যাত্রীদের উল্লাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমান বুধবার সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করেছে। উড্ডয়নের পর বিমানের দুই পাইলটের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য বিমানটি ছিনতাই হয়েছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলও যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়।
তবে শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি অবতরণের সময় যাত্রীদের গান গেয়ে, হাততালি দিয়ে ও উল্লাস করতে দেখা যায়- এমন একটি ভিডিও হিব্রু ভাষার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে।
ভিডিওতে যাত্রীদের যে গানটি গাইতে শোনা যায়, সেটি ‘ওদ আভিনু হাই’—একটি হিব্রু বাক্যাংশ, যার অর্থ ‘আমাদের পিতা এখনও জীবিত’। ইসরায়েলি সংস্কৃতিতে এটি পরিচিত একটি দেশাত্মবোধক ও আশাবাদী গান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
ফ্লাইদুবাই পরে জানায়, উড্ডয়নের পথে বিমানটিতে একটি ‘ঘটনা’ ঘটেছিল এবং সেটির পর বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি সংস্থাটি।
এক বিবৃতিতে বিমান সংস্থাটি জানায়, তাদের সংশ্লিষ্ট দলগুলো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে। একই সঙ্গে ফ্লাইদুবাই নিশ্চিত করেছে, বিমানের সব যাত্রী নিরাপদে আছেন এবং তাদের হিসাব নেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
পথে বিমানটি গন্তব্য পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকের দিকে চলে যায়। তাবুক দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর, যেখানে বেসামরিক ও সামরিক- দুই ধরনের স্থাপনাই রয়েছে। বিমানটি শেষ পর্যন্ত তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
বিমান অবতরণের পর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করছেন। কেউ হাততালি দিচ্ছেন, কেউ গান গাইছেন এবং কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। বিমানের ভেতরে তৈরি হওয়া আতঙ্কের পর নিরাপদে অবতরণ করতে পারায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে ভিডিওতে বোঝা যায়।
বিমানের ভেতরে কী ঘটেছিল?
ঘটনার প্রকৃত কারণ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বিমানের দুই পাইলটের মধ্যে বিরোধ শুরু হওয়ার পর তা ককপিটে শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে বিমানের কয়েকজন যাত্রী টেলিফোনে জানান, তারা বিমানের সামনের দিক থেকে চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন। তাদের ধারণা হয়েছিল, ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি চলছে।
যাত্রীরা আরও জানান, একপর্যায়ে বিমানটি দ্রুত ও খাড়া গতিতে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। পরে সেটি সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন যাত্রী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে দুই পাইলটকে আলাদা করার চেষ্টা করেন। প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে রক্তমাখা টি-শার্ট পরা এক যাত্রীকেও দেখা গেছে বলে এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চ্যানেল ১২ আরও জানিয়েছে, তদন্তকারীরা এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন যে, দুই পাইলটের একজন ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন কি না এবং অন্য পাইলট তা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন কি না। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ফ্লাইদুবাই কিংবা ইসরায়েল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেউই প্রকাশ্যে পাইলটদের মধ্যে কথিত সংঘর্ষ বা হাতাহাতির বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেনি।
কেন ইসরায়েল যুদ্ধবিমান পাঠাল?
ঘটনার শুরুতে বিমানটি ছিনতাই হয়ে থাকতে পারে- এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা ছিল, এটি ইসরায়েলিদের লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার কোনও প্রচেষ্টা হতে পারে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক যাত্রীর মুখে রক্তের দাগ দেখা যায় এবং তিনি দাবি করেন, বিমানটি ছিনতাই করা হয়েছে।
ভিডিওতে ওই যাত্রী বলেন, তারা একটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনার মধ্যে রয়েছেন। তার দাবি ছিল, যাত্রীরা ‘সন্ত্রাসীদের’ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন এবং বিমানটি অবতরণের পথে রয়েছে। তারা তাবুকে অবতরণ করছেন বলে তিনি জানান এবং সৌদি আরবের ওই এলাকাটি তাদের কাছে অপরিচিত হওয়ায় সহায়তার আবেদন করেন। বিমানের সবাই নিরাপদে আছেন, তবে পাইলটের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলেও তিনি ভিডিওতে দাবি করেন।
ভিডিও ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ইসরায়েল যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। উদ্দেশ্য ছিল, পরিস্থিতি সত্যিই ছিনতাই বা অন্য কোনও নিরাপত্তা হুমকির সঙ্গে সম্পর্কিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/185665