বগুড়ার সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুটে অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধি

বগুড়ার সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুটে অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধি

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অযুহাত দিয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুটে অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সাড়ে ৬ কিলোমিটার এ নৌরুটের ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুরুতে বৃদ্ধি করা হয়েছিল ২০ টাকা। সরকারি আনুপাতিক হারে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সরেজমিন পরিদর্শন করে নৌকার মাঝিদের বা ইজারাদারের সাথে কথা বলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

বগুড়া সারিয়াকান্দি নৌরুট ব্যবহার করে রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগের লোকজন ময়মনসিংহ বিভাগে যাতায়াত করেন। ময়মনসিংহ বিভাগের লোকজনও এ নৌরুট ব্যবহার করেই রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে যাতায়াত করেন। সড়কপথে বগুড়া জামালপুরের দূরত্ব ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার। অপরদিকে নৌপথে এ দূরত্ব মাত্র ৪৮ কিলোমিটার। প্রায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরত্ব কমাতে যাত্রীরা তাই এ নৌরুট ব্যবহার করেন।

এতে তাদের দূরত্ব কমার সাথে অর্থ ও সময় দু’টোই সাশ্রয় হয়। বগুড়া সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাট থেকে প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা, ২টা এবং বিকেল ৪টায় খেয়া নৌকা ছেড়ে যায়। অপরদিকে মাদারগঞ্জের জামথল নৌঘাট থেকে সকাল ৯টা, বেলা ১১টা, ২ টা এবং বিকেল ৪টায় খেয়া নৌকা ছেড়ে আসে। ২০০৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এ নৌরুটের ভাড়া ছিল ৬০ টাকা।

করোনাকালীন ২০২২ সালে জনপ্রতি নৌকাভাড়া বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। গত কয়েকদিন আগে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অজুহাতে এ নৌরুটের ভাড়া ২০ টাকা বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় তোলেন।

গতকাল রোববার সকালে সারিয়াকান্দি কালিতলা নৌঘাট সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, সেখানে জনপ্রতি ভাড়া ৯০ টাকা করে রাখা হচ্ছে এবং ৯০ টাকা করেই টিকিট সরবরাহ করা হচ্ছে। এলাকাবাসী এবং যাত্রীরা জানিয়েছেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে নৌপথের ভাড়া ২২ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। সে অনুযায়ী সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুটে ৭ কিলোমিটারে মোট ১ টাকা ৫৪ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু তারা একেবারে ২০ বা ১০ টাকা বাড়ানো একেবারেই অযৌক্তিক।

তারা আরও জানিয়েছেন, খেয়া নৌকা মিস করলে তাদের ভাড়া নৌকায় যেতে হয়। সেক্ষেত্রে তাদের থেকে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হয়। এক্ষেত্রে জনপ্রতি ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয় এবং নৌকায় যাত্রী সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত নেয়া হয়। অপরদিকে রিজার্ভ নৌকা ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।

কথা হয় আজিজার রহমান নামের এক যাত্রীর সাথে। তিনি বলেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুটের ভাড়া ৩০ টাকা করে বৃদ্ধি পেল। প্রথমে তারা এ নৌরুটের ভাড়া ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছিল। পরে আন্দোলনের কারণে মাত্র ১০ টাকা কমিয়ে ৯০ টাকা করেছে।

আমরা বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। আমরা এ নৌরুটে সরকার বেঁধে দেওয়া ভাড়া নেয়ার কার্যকর পদক্ষেপ চাই। এ নৌরুটের নৌকার মাঝি, ইজারাদারের লোকজন এখন কুলিদের ব্যবহার খুবই খারাপ। তারা আমাদের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করেন।

এ নৌরুটের ইজারাদার আমিরুল ইসলাম বলেন, এর আগেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন আমরা এ নৌরুটের ভাড়া বৃদ্ধি করিনি। এবার বৃদ্ধি পাওয়ায় দুইটা মিলিয়ে আমরা গড়ে ১০ টাকা বৃদ্ধি করে জনপ্রতি ৯০ টাকা করে নিচ্ছি। এতে যাত্রীদের মধ্যে কোনও বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়নি। তারা স্বাচ্ছন্দে নৌকায় যাতায়াত করছেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মিকাইল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেছি। তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে নৌকার মাঝি বা ইজারাদারের সাথে কথা বলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/185300