ভেরিফিকেশনে বাদ: ঢাবিতে সরকারকে লাল কার্ড দেখালো ছাত্রশক্তি
ঢাবি প্রতিনিধি: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশনে হাজারখানেক চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি।
আজ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। বুধবার চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের নিয়োগপত্র ইস্যু করে সরকার। কিন্তু এতে বাদ পড়ে হাজারেরও বেশি প্রার্থী। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে প্রায় ১২ শতাধিক প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ আয়োজন করে ছাত্রশক্তি।
এ সময় বক্তারা বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পরে বিএনপি এসে কি করেছে? সর্বপ্রথম সে মেধাবী চাকরি প্রত্যাশী তরুণ-তরুণীর পেটে লাথি মেরেছে। মেধার ভিত্তিতে চাকরি পেয়ে, তারা চাকরি পাওয়ার পরে বিএনপি এসে হয়রানি করেছে, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আটকে দিয়েছে। বিএনপির এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সে সকল চাকরি প্রত্যাশী ভাই এবং বন্ধুদের পাশে আমরা জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ বাংলাদেশের সকল সাধারণ ছাত্র-জনতা পাশে থাকছি এবং বিএনপি সরকারকে আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি।
তারা বলেন, জনগণের পকেট কেটে বিএনপি সরকার বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবি করেছে। আমরা নির্বাচনের আগে দেখেছিলাম বিএনপি দিয়েছিল একটি ১০ দফা। আমরা ভেবেছিলাম হয়ত এই দফাগুলো জনগণের কল্যাণের জন্য। কিন্তু নির্বাচনের পরে আমরা কি দেখলাম? এই যে তেলের দাম বৃদ্ধি করার দফা, অলরেডি তিন দফা দাম বাড়িয়েছে। তারা আরও বলেন, বিগত কিছুদিন আগে বিএনপি সরকার এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়া তাদের ক্যাডার বাহিনীর কাছে, তাদের এলাকার স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের কাছে ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। এ দেশের ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদের মুখে বিএনপি সরকার সেটা থেকে পিছিয়ে এসেছে। আবার নতুন করে এই যে ভেরিফিকেশনের নামে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে, ভাইভা নাম্বার বৃদ্ধি করার মাধ্যমে তারা নতুন করে এই মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ থেকে তাদের মত মূর্খ, চাঁদাবাজভিত্তিক বাংলাদেশ করার পরিকল্পনায় নেমেছে। এই ধরনের মূর্খ, এই ধরনের চাঁদাবাজ, এই ধরনের অশিক্ষিত যদি ক্ষমতায় বসে, যদি দেশের শাসন ক্ষমতায় যদি এরা বসে, তাহলে এদের কাছ থেকে আমরা ভালো কিছুই আশা করতে পারি না।
ছাত্রশক্তি নেতারা বলেন, একজন আদু বোনকে বসানো হয়েছে নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায়। যে যত বেশি অযৌক্তিক কথা বলে, ফালতু কথা বলে বিএনপিকে নিয়ে, তারেক রহমানকে নিয়ে পাম দিয়ে কথা বলে; বিএনপি সরকার সেই অযোগ্য মানুষগুলোকে তাদের কি বানায়? তাদেরকে নিয়ে এসে তাদের উপদেষ্টা বানায়, সহকারী বানায়। এই ধরনের একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের কর্মকাণ্ড, একটি দেশের মন্ত্রীদের এই ধরনের কথা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/185049