ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি ককরোচ পার্টির

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি ককরোচ পার্টির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিইসির পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সিজেপির জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করলে প্রথমে দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপর দিল্লিতে আন্দোলনে নামবে সংগঠনটি। তিনি বলেন, সিইসি পদত্যাগ না করলে ‘জন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি অবশ্যই হবে।

এর আগে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপি দিল্লির জন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছিল। ওই আন্দোলনের পর ২৫ জুলাই তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

অনলাইনে শুরু হওয়া সিজেপি বর্তমানে একটি চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটি এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও শহরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থা নিয়ে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করছে। বিভিন্ন এলাকায় স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সংগঠনটি স্থানীয় পর্যায়ে বাধার মুখেও পড়েছে।

সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাসের বক্তব্য, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সরকারের কাছে অন্য কোনো বিষয়ে জবাবদিহি বা পরিবর্তনের দাবি কার্যকর হবে না।

এদিকে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা বা এসআইআর-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তাদের জ্ঞাতসারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুতর ঘাটতিও ছিল।

বুধবার ওই প্রতিবেদন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নির্বাচন কমিশন লিখিত আপত্তিগুলোর বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে কমিশনের দাবি, এগুলো ছিল তাদের স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ। কমিশন দুই নির্বাচন কমিশনারের উত্থাপিত নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর কীভাবে সমাধান করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।


কমিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভিন্নমত ও পর্যবেক্ষণ স্বাভাবিক বিষয়। লিখিত মতামত, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই কমিশনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। কমিশনের সদস্যদের দেওয়া পরামর্শগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছিল বলেও জানানো হয়।

এদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, গণতন্ত্রের অর্থ হলো জনগণ তাদের সরকার নির্বাচন করবে। তার দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়লে নির্বাচন কমিশনকে প্রতিটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনসম্মত, স্বচ্ছ এবং কার্যকরভাবে পর্যালোচনাযোগ্য কি না, তা ব্যাখ্যা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজন তাদের জ্ঞাতসারে বা অনুমোদন ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এসব আপত্তি কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো কে অনুমোদন করেছেন, তা প্রকাশ্যে জানানো উচিত।


প্রথমত, অনলাইনে ফর্ম-৬ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ভোটারদের জন্য অতিরিক্ত একটি ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছে। এতে নতুন আবেদনকারীদের নিজেদের বা বাবা-মায়ের আগের এসআইআর ভোটার তালিকায় উপস্থিতির তথ্য দিতে বলা হচ্ছে। সিজেপির অভিযোগ, এর ফলে প্রথমবার ভোটার হতে চাওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ সমস্যায় পড়তে পারেন।

দ্বিতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের বিষয়টি। এসআইআর-সংক্রান্ত মামলাগুলো, বিশেষ করে বাদ পড়া ভোটারদের আপিল এবং এ বিষয়ে কমিশনের আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা দাবি করেছে সিজেপি।

তৃতীয়ত, ভোটার তালিকার তথ্য কেন্দ্রীভূত করার বিষয়টি। দাসের দাবি, ভোটার নিবন্ধন, নাম বাদ দেওয়া এবং তথ্য ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কীভাবে ও কার অনুমোদনে হচ্ছে, তা কমিশনকে স্পষ্ট করতে হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184988