মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ৮ নৌসেনার আত্মহত্যার চেষ্টা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানের সময় মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের আট সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। মার্কিন ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী হাং কাওয়ের একটি চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে অভিযানের সময় কোনো নৌসেনা আত্মহত্যা করে মারা যাননি বলে জানিয়েছে সে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী হাং কাওয়ের ওই চিঠিটি প্রকাশিত হয়। সিএনএনের হাতে আসা ওই চিঠিতে আত্মহত্যার চেষ্টা করা মার্কিন নৌসেনার যে সংখ্যা সামনে এসেছে, তা আগে প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সদস্যদের মানসিক অবস্থা ও মনোবল নিয়ে সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডের করা প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। তবে কাও জানান, অভিযানের সময় কোনো নৌসেনা আত্মহত্যা করে মারা যাননি।
গত মঙ্গলবার লেখা ওই চিঠিতে ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডকে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন নৌমন্ত্রী হাং কাও লেখেন, ‘(ইউএসএস আব্রাহাম) লিংকনের অভিযান শুরুর পর থেকে পুরো স্ট্রাইক গ্রুপে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সংখ্যার মধ্যে লিংকনের নাবিকদের পাশাপাশি ক্যারিয়ারের বিমানবাহিনী, স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের সদস্য, সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার এবং জাহাজে থাকা সব বিমান স্কোয়াড্রনের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত।’
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ হিসেবে প্রায় ছয়টি জাহাজে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার মার্কিন নৌসেনা মোতায়েন ছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর সময় বিমানবাহী রণতরীটি ছয় মাসেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে অবস্থান করে। একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা অত্যন্ত বেশি’। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিমানবাহী রণতরীর স্ট্রাইক গ্রুপগুলোর মোতায়েনে সাধারণত বছরে এক বা দুটি আত্মহত্যার চেষ্টা দেখা গেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধকালীন অভিযানের চাপ স্বাভাবিক মোতায়েনের তুলনায় অনেক বেশি। কোনো বন্দরে যাত্রাবিরতি নেই, সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকতে হয়—এ ধরনের বিষয় এর মধ্যে রয়েছে।’
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184899