রংপুরের বদরগঞ্জের ভাড়ারদহ বিল কচুরিপানার দখলে : পানিপাড়ে মাদকসেবীদের আড্ডা

রংপুরের বদরগঞ্জের ভাড়ারদহ বিল কচুরিপানার দখলে : পানিপাড়ে মাদকসেবীদের আড্ডা

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরশহরের বিশালায়তনের ভাড়ারদহ বিলের পানি দখল করেছে কচুরিপানা, এদিকে পাড় দখল করেছে মাদকসেবীরা। ফলে চরম আতঙ্কে দর্শনার্থীরা যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন।

জানা যায়, ভাড়ারদহ বিলের আয়তন ১১ দশমিক ৫৯ একর। মূলতঃ গড়ডাঙ্গী নদী ও চিকলী নদীর মিলনস্থলে ভাড়ারদহ বিলের জন্ম হলেও কালের বিবর্তনে সেটি একসময় হারিয়ে গিয়ে সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছিল। তবে ২০২১ সালে ৪৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে সেটি খনন করে বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(বিএমডিএ)। এরপর বিলের পাড়ে রোপণ করা হয় দু’শতাধিক প্রজাতির গাছ।

যেখানে পাখিরা আশ্রয় নেয়। এছাড়া বিলটিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৎস অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। পাখির কলতানে এবং দর্শনার্থীদের পদচারণায় ভাড়ারদহ স্বল্প সময়ে মুখরিত হয়ে উঠে। কিন্তু এলাকা ঘুরে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলে বিলটি দখলে নেয় নানা অস্ত্রে সজ্জিত এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। তারা বিলের মাছ লুটের পাশাপাশি নিজেদের অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তোলে। একইসাথে নানা অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলে জায়গাটি।

এরই মাঝে পরিদর্শনে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বিলের উন্নয়নে একগাদা প্রতিশ্রুতি আওড়ান। তারপর দিনের আলোয় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কিছুটা বন্ধ হলেও রাতের আঁধার নেমে আসার সাথে সাথেই সেখানে এক ভয়ঙ্কর দৃশ্যের অবতারণা হত। তবে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার পর দৃশ্যপট কিছুটা বদলেছে। কিন্তু অস্ত্রের ঝনঝনানি এখনো বন্ধ হয়নি।

এদিকে এখানে একসময় নানা প্রজাতির পাখির বসবাস থাকলেও বিলে কচুরিপানা ছেয়ে যাওয়ায় সেখানে আর কোন পাখিই নেই। এছাড়া বিলকে মৎস্য অভয়াশ্রম করা হলেও পানি দূষণের কারণে মাছ মরে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন মাছ। এবিষয়ে বিলের পাহারাদার আতিয়ার রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে ভাড়ারদহ বিল দেখভালের দায়িত্বে থাকা বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(বিএমডিএ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কচুরিপানা সরানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে বার বার আবেদন করছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছেনা। একই কথা বলেন প্রকল্প পরিচালক হাবিবুর রহমানও।

অপরদিকে ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ভাড়ারদহ বিলে মাদকসেবীদের আখড়া রয়েছে বিষয়টি জেনেছি। কিন্তু সেখানে অভিযান চালানো কঠিন। কারণ পুলিশ দেখলেই মাদকসেবীরা চারদিক দিয়ে দৌড়ে পালায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184684