সোনালী আঁশে ফিরছে সুদিন, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পাটের দামে খুশি কৃষক
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় পাট চাষিদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। চলতি বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় জেলার কৃষকদের মধ্যে আবারও পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এতে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ মনে করছেন আগামীতে পাটের বাজারদর ভালো থাকলে এর উৎপাদন আরও বাড়বে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১১ মেট্রিক টন বা ৬০৮ বেল পাট। এ বছর উপজেলায় সিভিএল-১ ও ৯৮৯৭ এই দুই জাতের পাট আবাদ করা হয়েছে। এরইমধ্যে ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ করেছেন চাষিরা।
কৃষকরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৯শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে পাট চাষে সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন হয় ৮ থেকে ১০ মণ পাট। বর্তমান বাজারদরে ওই পাট বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে। খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। ফলন, পাটের মান ও দামের ওপর লাভের পরিমাণ কমবেশি হয়।
উপজেলার আটপুকুরহাটসহ কয়েকটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, রিকশাভ্যান ও ইজিবাইকে করে পাট নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক ছামছুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছর পাটের ফলন তেমন ভালো হয়নি। পাট চাষ করে লোকসান হচ্ছিল। তবে এ বছর ফলন ও দাম দুটিই ভালো পেয়েছেন। উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কৃষক মতিউর রহমান বলেন, আলু চাষে লোকসান গুনে ২০ শতক জমিতে পাট চাষ করেছেন। এবার পাটে আলুর কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
কৃষক ধীরেন্দ্র দেবনাথ জানান, পাটের ভালো দামের পাশাপাশি জ্বালানি হিসেবে পাটখড়ির দামও আশানুরূপ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাটখড়ি ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে তাদের বাড়তি আয় হচ্ছে। পাটের আড়তদার শান্ত কুমার কুন্ডু বলেন, পাটের বাজার ভালো রয়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আড়তে বেচাকেনা হচ্ছে। এতে এ বছর পাট চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, এ বছর পাট চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও কৃষকদের তেমন সমস্যা হয়নি। এছাড়া পাট চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের পাটের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। ভালো বাজারদরের কারণে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।