পাবনার বেড়ায় ভাঙারি বিক্রির আয়ে চলে কয়েকশ’ পরিবার
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : অন্যের চোখে যা পুরোনো, অচল কিংবা ফেলে দেওয়ার মতো, সেটিই মো. আজম আলীর কাছে জীবিকার পুঁজি। ভোর হলেই ভ্যানের সাথে মাইক বেঁধে বেড়িয়ে পড়েন তিনি। বেড়া পৌর এলাকার ছোট পায়না মহল্লার এই বাসিন্দা পাড়া-মহল্লার বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরোনো টিন, ভাঙা লোহা, তার, প্লাস্টিক ও অচল বৈদ্যুতিক সামগ্রী কেনেন। মাত্র ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকার ভাঙারি কিনে দিন শেষে বিক্রি করে যে লাভ হয়, তা দিয়েই সংসার চলে।
আজম আলীর মতো বেড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় কয়েকশ’ মানুষ ভাঙারি সংগ্রহ ও বেচাকেনার সাথে জড়িত। ভ্যানের সাথে মাইক বেঁধে নিয়ে তারা প্রতিদিন বেড়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বাড়ি বাড়ি থেকে পুরোনো ও পরিত্যক্ত মালামাল সংগ্রহ করেন। দিনের শেষে এসব মালামাল বিক্রি করেন বেড়া পৌর এলাকার মোহনগঞ্জসহ বিভিন্ন আড়তগুলোতে। আর এ আয়েই চলে তাদের সংসার।
পাবনার বেড়ায় এখন জমে উঠেছে ভাঙারি ব্যবসা। পুরোনো লোহা, টিন, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, প্লাস্টিক, তার, ভাঙা যন্ত্রপাতি ও অচল বৈদ্যুতিক সরঞ্জামকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই ব্যবসা। এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন উপজেলার কয়েকশ’ মানুষ। কেউ পাড়া মহল্লার বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভাঙারি সংগ্রহ করেন, কেউ মালামাল বাছাই ও মজুত করেন। আবার কেউ পরিবহন, ওজন ও পাইকারি কেনাবেচার কাজ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় বেড়া পৌর এলাকার মোহনগঞ্জ মহল্লার ১০-১২টি ভাঙারি পাইকারি আড়তকেন্দ্রিক ছিল এ ব্যবসা। সময়ের সাথে এর পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে হাটুরিয়া, নাকালিয়া, রাকসা বাজার ও নগরবাড়িসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক ভাঙারি পাইকারি প্রতিষ্ঠান।
শুধু বেড়া উপজেলাই নয়, সাঁথিয়া, শাহজাদপুর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ভাঙারি মালামাল আসে মোহনগঞ্জসহ বিভিন্ন আড়তে। ফলে একসময় ছোট পরিসরে চলা এ ব্যবসা এখন স্থানীয় অর্থনীতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
বাড়ির কোণে পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন মানুষের হাতে অর্থ এনে দিচ্ছে, তেমনি এসব মালামাল পুন:প্রক্রিয়াজাত হয়ে আবার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বেড়ার আড়তগুলো থেকে ভাঙারি মালামাল চলে যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
মালামালের ধরন ও মান অনুযায়ী এগুলো সাভার, ঢাকার শ্যামপুরসহ বড় বাজারগুলোতে পাঠানো হয়। পরে সেগুলো বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও পুন:প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানে যায়। পুরোনো লোহা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে নতুন পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই ফেলে দেওয়া সামগ্রী আবার উৎপাদনের কাজে ফিরে আসে।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. মিলন মাহমুদ বলেন, ‘ভাঙারি বাছাইয়ের সময় ধারালো লোহা, কাঁচ ও মরিচাধরা টিনে কেটে গিয়ে শ্রমিকদের আহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া কাজ করায় এ ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক বর্জ্য, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184588