বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে ১৩৪ কোটি টাকার পাট বিক্রি

বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে ১৩৪ কোটি টাকার পাট বিক্রি

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বগুড়া সারিয়াকান্দিতে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে এবং মোট উৎপাদিত পাটের মূল্য ১৩৪ কোটি টাকার বেশি। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হয়েছেন এবং তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। পাটখড়ি বিক্রি করেও বাড়তি আয় ঘরে তুলছেন কৃষক।

বগুড়া সারিয়াকান্দিতে প্রচুর পরিমাণ পাটচাষ হয়। যমুনা এবং বাঙালি নদী বিধৌত হওয়ায় এ উপজেলার মাটি বেলে দোআঁশ, যা পাট উৎপাদনের জন্য খুবই উপযোগী। তাই এ উপজেলা পাটচাষের জন্য খুবই সমৃদ্ধ। একদিকে শ্রমিকের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি এবং অপরদিকে লাগাতার পাটের দামের দরপতনে অব্যাহত লোকসানে গত ২ বছর আগেও কৃষকরা পাটচাষ কমিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গত বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় তারা বেশ লাভবান হয়েছিলেন আর তাই এ বছর তারা দ্বিগুণ জমিতে পাটচাষ করেছিলেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী গত কয়েকদিন আগেই সবগুলো জমির পাট কর্তন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পাটগাছ পানিতে রেখে তারা পাটের আঁশ ছাড়িয়ে তা রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কৃষকদের পাটের ফলন খুবই ভালো হয়েছে।

কৃষকেরা বাজারে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার ৩০০ টাকা মণ পর্যন্ত প্রতি মণ বিক্রি করেছেন। ইতিমধ্যেই তারা পাটখড়িও বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। সারাবছরের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য মজুদ রেখে, অতিরিক্ত পাটখড়ি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি টাকা ঘরে তুলছেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। যার বিপরীতে ৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে পাটচাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৯ হাজার ৪ মেট্রিক টন পাট। এ বছর পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ১০৫ হেক্টর। অর্জন হয়েছে ৫ হাজার ৫৫ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৯৮ মেট্রিক টন পাট। বাজারে সর্বনিম্ন পাটের দাম ৩ হাজার ৮০০ টাকা । সে হিসেবে এ বছর ১৩৪ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার পাট বিক্রি হয়েছে।

পাটচাষী কাজলা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ বলেন, গত বছর বাজারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে পাট বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলাম। তাই এ বছর দ্বিগুণ জমিতে পাটচাষ করেছিলাম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘাপ্রতি গড়ে ১১ মণ করে পাট পেয়েছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাটের দাম আরও ভালো পেয়েছি। বাজারে প্রতিমণ পাট ৪ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। সারা বছর রান্নার কাজের জন্য রেখেও পাটখড়ি বিক্রি করেও অনেক টাকা ঘরে তুলতে পেরেছি।

সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার পাট ব্যবসায়ী সুনিল কুমার প্রামানিক বলেন, গত বছর মৌসুমের সময় আমরা সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬০০ টাকা মণ পর্যন্ত পাট ক্রয় করেছিলাম। যা গত বছর মৌসুম ছাড়া সময়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

এ বছর সিজনের সময় আমরা ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার ৩০০ টাকা মণ পর্যন্ত পাট ক্রয় করেছি।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, সারিয়াকান্দির মাটি পাটচাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই কৃষি অফিসের সহায়তায় উপজেলায় দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে পাটচাষ হয়েছে এবং ফলন ভালো হয়েছে।

গত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে আগামীতে পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার পাট কৃষকদের ঘরে উঠেছে এবং বাজারে বিক্রি হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184548