বগুড়ায় মাত্র ৫ কোটি টাকায় বাঁচতে পারে শত শত প্রাণ
স্টাফ রিপোর্টার: মাত্র ৫ কোটি টাকায় বাঁচাতে পারে উত্তরাঞ্চলের শত শত মানুষের জীবন। এই অঞ্চলের চিকিৎসা সেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রস্থল বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল। অথচ একটি পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগ সার্জারি (বাইপাস ও ভাল্ব প্রতিস্থাপন) ইউনিট গড়ে উঠেনি হাসপাতালটিতে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নামমাত্র প্রায় ৫ কোটি টাকার বাজেট ও সামান্য সদিচ্ছা থাকলেই এই জীবনরক্ষাকারী ইউনিটটি চালু করা সম্ভব।
আর এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের লাখো হৃদরোগীকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে রাজধানী ঢাকা বা বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে শজিমেক হাসপাতালে হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম ও রিং পরানোর কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হলেও ওপেন হার্ট সার্জারি বা বাইপাসের মতো উন্নত সেবা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে ছুটতে হয় প্রাইভেট ক্লিনিকে। এতে গরিব ও নিম্নবিত্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় ও ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।
সম্প্রতি শজিমেক হাসপাতালটিকে ১ হাজার ৮০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়াও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে ভবনের উচ্চতা ৪ তলা থেকে বাড়িয়ে ৭ তলা করা হয়েছে। ফলে হাসপাতালে পর্যাপ্ত জায়গা ও স্থান সংকুলান রয়েছে। চিকিৎসক ও জনবলের কিছু ঘাটতি থাকলেও প্রতিদিন এই হাসপাতালে তিন হাজারের অধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।
কেবল সঠিক সময়ে একটু সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে প্রস্তুত অবকাঠামোতেও হৃদরোগ সার্জারি ইউনিট চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। শজিমেক হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজিস্ট সহকারী অধ্যাপক ডা. আবুল আলম জানান, “হাসপাতালে ইতোমধ্যেই নিয়মিত এনজিওগ্রাম ও রিং পরানোর কাজ চলছে।
মাত্র ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা খরচ করে দুটি আধুনিক অপারেশন থিয়েটার (ওটি) তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় হার্টসার্জন পদায়ন করা গেলে এখানে কম খরচে বাইপাস সার্জারি ও হৃদযন্ত্রের ভালভ পরিবর্তন করা সম্ভব। এতে শুধু বগুড়ার মানুষ নয়, গোটা উত্তরাঞ্চলের রোগীরা উপকৃত হবেন।”
বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা ফারুক আহমেদ সম্প্রতি শজিমেক হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করিয়েছেন। সরকারি ফি মাত্র ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ওষুধ বাবদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা—সব মিলিয়ে তার প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা তাকে বাইপাস সার্জারির পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাভাবে ও স্থানীয়ভাবে সার্জারি চালুর ব্যবস্থা না থাকায় তাকে এখন ঢাকায় যাওয়ার কঠিন প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
তার মতো একই আক্ষেপ বগুড়া সদরের শিকারপুর এলাকার মিনা খাতুনের স্বজনদের। হৃদরোগে আক্রান্ত এই নারীর ভালভ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলেও স্বল্প আয়ের পরিবারের পক্ষে ঢাকায় গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করানোর ব্যয় বহন করা অসম্ভব প্রায়। তাদের মতে, “বগুড়াতেই যদি এই সার্জারি চালুর ব্যবস্থা করা হতো, তবে আমাদের মতো গরিব মানুষের খরচ ও দুর্ভোগ দুটোই বহুলাংশে কমে যেত।”
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলের গরিব ও প্রান্তিক মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে যেতে গিয়ে পথে বসেন। অনেকেই উন্নত চিকিৎসার অভাবে সময়মতো সঠিক সেবা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন।
তাই জনস্বার্থে ও মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ, ওটি প্রস্তুত এবং দক্ষ সার্জন পদায়নের মাধ্যমে হৃদরোগ সার্জারি ইউনিটটি চালুর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184453