জাতির নিরাপত্তা দিন দেশকে বাঁচতে দিন : বগুড়ায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জাতির নিরাপত্তা দিন দেশকে বাঁচতে দিন : বগুড়ায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

শহর প্রতিনিধি : দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন পদে বসিয়ে কোটি টাকার চাকরি বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদের  বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এমপি।

তিনি বলেছেন, দুর্নীতির হার বাড়িয়ে, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চৌদ্দ শ শহিদের আত্মত্যাগকে পাশ কাটিয়ে ১১ দলীয় জোটকে বাধ্য করা হয়েছে দ্বিতীয় লংমার্চে নামতে। তিনি বলেন, মেহেরবানি করে জাতির নিরাপত্তা দিন এবং বাংলাদেশকে বাঁচতে দিন। সর্বজান্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করুন, নতুবা কঠোর লড়াইয়ের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায় করা হবে।

আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বগুড়া মহানগরের মাটিডালী বিমান মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ কর্মসূচির পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি যখন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি দাবি করেছিলেন—’গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’।

বর্তমান সরকারের ব্যর্থতায় দেশের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ১১ দলীয় জোটের ৮ দফার দাবি মূলত বিএনপির সাবেক রাজনীতিক ও বর্তমান রাষ্ট্রপতির সেই পুরনো দাবিরই পুনরাবৃত্তি। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই ৮ দফা দাবি মানা না হলে তা ১ দফায় রূপ নেবে।

জামায়াত ইসলামী বগুড়া মহানগর শাখার আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে পথসভাটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমান।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এমপি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে দেশের মানুষ রক্ত দিয়েছিল একটি অর্থবহ পরিবর্তনের আশায়। কিন্তু বগুড়ার কয়েকটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন ছাড়া বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা পরিবর্তন ঘটেনি।

গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে সরকার গঠনের শুরু থেকেই মানুষের আস্থা হারিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. অলি আহমেদ, বীর বিক্রম বলেন, দখলদার সরকারকে লংমার্চের ৮ দফার দাবি মানতে বাধ্য করতে দেশের মানুষকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ১১ দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতায় না গেলে দেশে চাঁদাবাজি রোধ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সংশোধনের নামে কোনো টালবাহানা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। সরকারকে হঠাতে মুক্তিকামী জনতা পিছপা হবে না। বিরোধীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর সমাধানের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের গণভোটের রায় না মানলে জনগণ এই সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে।

বিগত ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং গুম-খুন-জেল-জুলুমের জন্য ‘লেডি ফেরাউন’ শেখ হাসিনাকে সাধারণ মানুষ সীমানার বাইরে নিক্ষেপ করেছে। এ সময় তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে পিতৃভূমিতে দাঁড়িয়ে দেশের মানুষের সাথে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানান।

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হয়ে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ প্রদক্ষিণ করে দুপুর নাগাদ বগুড়ায় এসে পৌঁছায় ১১ দলীয় জোটের দ্বিতীয় লংমার্চ। সকাল থেকেই মহানগরের মাটিডালী বিমান মোড়ে জড়ো হতে শুরু করেন ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা।

দুপুরের পর বিসিক এলাকা থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং মাটিডালী মোড় পর্যন্ত জনস্রোত তৈরি হয়। এছাড়া চারমাথা ও দ্বিতীয় বাইপাস সড়কেও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184295