প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে শবনম ফারিয়ার আবেগঘন পোস্ট

প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে শবনম ফারিয়ার আবেগঘন পোস্ট

বিনোদন ডেস্ক : অভিনেত্রী শবনম ফারিয়ার বিয়ের এক বছর পূর্ণ হলো। বিশেষ এই দিনে এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী। জানালেন তার জীবনের অতীত যন্ত্রণা, মানসিক লড়াই এবং বর্তমান সুখের অভিজ্ঞতার কথা। 

বিবাহবার্ষিকীর প্রথম প্রহর ঘরোয়াভাবেই আয়োজন করেছেন তারা। কেক কেটে নিজেদের সুন্দর মুহূর্ত উপস্থাপন করেন। এরপর অভিনেত্রী তা ফেসবুকে পোস্ট করে আবেগঘন কথা যোগ করেন। 

অতীতের ভুল সিদ্ধান্ত ও সামাজিক চাপের কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী লেখেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষের মতো আমিও জীবনে অনেক ভুল করেছি, কিন্তু আমার কিছু ভুল শুধু ভুল বললে হবে না; লিটরালি নিজের সাথে নিজে অন্যায় করেছি। সামাজিকতা রক্ষায় নিজ চরিত্রের বাইরে গিয়ে অন্যায় সহ্য করেছি, পচা শামুকে পা কেটে এমন দাগ ফেলেছি যে প্লাস্টিক সার্জারি করেও সে দাগ তোলা যাবে না।’

মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার কথা জানিয়ে ফারিয়া লেখেন, ‘সহ্য না করতে পারলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে কখনো কখনো রাগ ঝেড়েছি, নিজের এবং অন্যের উপর জমা এই জেদ সরাতে কাউন্সেলিং, থেরাপি কিছুই বাদ দেইনি। জীবন থেকে বেশকিছু বছর চলে গেছে ভেতরে সেই জমা আর্তনাদ থেকে পালাতে।’

দ্বিতীয় বিয়েকে নিজের সৌভাগ্য বলেও মনে করেন এই অভিনেত্রী। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে ফারিয়া লেখেন, ‘আল্লাহ তার সৃষ্টিকে খুব বেশিদিন কষ্টে রাখেন না, তিনি আমাকেও এত বছরের কষ্ট সহ্য করার উপহারস্বরূপ এই ভদ্রলোককে আমার জীবনে পাঠিয়েছেন। তারচেয়েও বড় উপহার, আমাকে চমৎকার একটা পরিবারের অংশ করেছেন, যেখানে আমি আমার শ্বশুর-শাশুড়ির সাথে সব শেয়ার করতে পারি। ননদের সাথে তার ভাইকে নিয়ে হাসাহাসি করতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ।’

আবেগঘন এই বার্তার শেষে স্বামীর জন্য একটি মিষ্টি ও হাস্যরসাত্মক বার্তাও জুড়ে দেন ফারিয়া। তানজিমকে ট্যাগ করে মজার ছলে তিনি লেখেন, “হ্যাপি অ্যানিভার্সারি তানজিম। সামনের বছরের তোমার প্রতিপাদ্য বিষয়— ‘রুম থেকে বের হলে লাইট/ফ্যান/এসি অফ করতে হয়’ আর ‘ফ্রিজ থেকে পানি বের করলে ফ্রিজের দরজা বন্ধ করতে হয়’।”

এর আগে ২০২০ সালে প্রথম স্বামী হারুনুর রশীদ অপুর সঙ্গে প্রথম সংসারের তিক্ততা আর নানা টানাপোড়েনের ইতি টেনে দ্বিতীয়বারের মতো নতুন ঘর বাঁধেন শবনম ফারিয়া। সেই বিচ্ছেদের দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্মকর্তা তানজিম তৈয়বকে বিয়ে করেন তিনি। 

তানজিম তৈয়ব অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস থেকে ফিন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। জীবনের সব তিক্ততা পেছনে ফেলে তানজিম ও তার পরিবারের সান্নিধ্যে এখন নতুন সানন্দে দিন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184258