বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল-শজিমেক সড়কের ইডিসিএল মোড় : পথচারী ও রোগীদের প্রাণঘাতী 'ব্ল্যাক স্পট'

বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল-শজিমেক সড়কের ইডিসিএল মোড় : পথচারী ও রোগীদের প্রাণঘাতী 'ব্ল্যাক স্পট'

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে রোগী দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার রাস্তার এ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস মোড়টি বর্তমানে প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে এ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস পর্যন্ত এই রাস্তার একটি নির্দিষ্ট বাঁকে প্রায়শই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্টদের চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাস্তার মোড়টি এতটাই ধারালো বা ‘শার্প’ যে, উচ্চ গতিতে আসা যানবাহনের চালকরা মোড় ঘোরার আগ পর্যন্ত সামনের রাস্তা দেখতে পান না। বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি বা রিক্সা হঠাৎ নজরে আসায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

দৃষ্টিসীমা বা ‘লাইটস অফ সাইট’ সমস্যার এর ফলে মোড়ের ওপারে কী আছে, তা দূর থেকে বোঝার কোনো উপায় থাকে না। এটি চালকদের ‘দৃষ্টি-অন্ধকার’ ব্লাইন্ড স্পট এর মধ্যে ফেলে। এটি একটি সংযোগ সড়ক হওয়ায়, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল এবং ইজিবাইক বা রিক্সাগুলো সাধারণত দ্রুত গতিতে চলাচল করে। অন্ধ বাঁকে হঠাৎ ব্রেক কষতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িগুলো উল্টে যায় বা মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এই রাস্তার একধারে বেশ কিছু খোলা বা অব্যবহৃত জায়গা রয়েছে। কিন্তু এই জায়গাটিকে কোনো ধরনের এক্সটেনশন বা অ্যাকজিলারেটরি ল্যান্ড  হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। যার ফলে মোড়ের মূল সরু অংশটিতেই গাড়ির অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই বিপদজনক বাঁকের মুখে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, ট্রাফিক সিগন্যাল বা নির্দেশিকা নেই। চালকরা নিজেদের অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করে গাড়ি চালান, যা অপরিচিত চালকদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। এই রাস্তায় প্রায়শই ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার ফলে অনেকসময় হাসপাতালে পৌঁছাতে রোগীর দেরি হয়ে যায় বা পথেই তাদের অবস্থা আরও সঙ্কটাপন্ন হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

রাস্তাটির দুই পাশে অতিরিক্ত সরকারি জমি থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করে রাস্তাটিকে ঝুঁকিমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটিকে নিরাপদ করার জন্য রাস্তার অন্ধ বাঁকের মুখ থেকে টিনের বেড়া ও ঝোপঝাড় সরিয়ে দৃষ্টিসীমা পরিষ্কার করা এবং রাস্তার মোড় প্রশস্ত করা ও নিরাপদ ঢাল দেওয়া। রাস্তার মোড়ের দুই দিকে একাধিক ‘স্পিড ব্রেকার’ বা গতি-নিয়ন্ত্রণকারী রোড বাম্প নির্মাণ করা। রাস্তার এই অংশটিকে একটি ‘এক্সটেনশন ল্যান্ড’ বা নিরাপদ মোড়ের আদলে পুনর্র্নিমাণ করা।

পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নির্দেশিকা স্থাপন করা  প্রয়োজন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক জানান, মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে শজিমেক পর্যন্ত যে সড়কটি রয়েছে সেই সড়কটি আরও প্রসস্ত করা হবে। দুর্ঘটনা রোধে চিহ্নিত স্থানে মিরর বসিয়ে দেওয়া হবে। যাতে এপাস ও পাস থেকে সব দেখা যায়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/184203